বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন




বছরের সেরা ১০ দিন: জিলহজ্জ মাসের ফযীলত ও আমল

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ ৭:১৭ pm
lailatul kadar শবে-কদর ইতিকাফ রমজান রোজা sobe borat Shab e Barat namaz রজনী নিসফে শাবান‎ লাইলাতুল বরাত শা'বান মাস ইবাদত বন্দেগি শবে বরাত প্রার্থনা মুসলিম উম্মা মহিমান্বিত রাত শবে বরাত নফল ইবাদত কোরআন তেলাওয়াত জিকির-আসকার জিকির আসকার মোনাজাত ফজিলত ধর্মপ্রাণ মুসলমান শবে মেরাজ শবেমেরাজ ইসলাম islam eid e miladunnanabi Eid Milad un Nabi Rabi al awwal রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী Rabi al-Awwal eid মুহাম্মদ সা রবিউল আউয়াল ঈদ Baitul Mokarram bicycle salat বাইসাইকেল নামাজ সালাত salat বাইসাইকেল নামাজ সালাত
file pic

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির কল্যাণের জন্য বছরের কিছু সময়কে বিশেষ মর্যাদা ও বরকত দিয়ে ধন্য করেছেন । এর মধ্যে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশটি দিন অন্যতম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ । এই দিনগুলো মূলত ইবাদত, তওবা, তাকওয়া এবং নেক আমলের এক মহা মৌসুম । কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই দিনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

জিলহজ্জ মাসের মহত্ত্ব ও গুরুত্ব

ইসলামে যে চারটি মাসকে ‘হারাম’ বা বিশেষ সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, জিলহজ্জ তার মধ্যে অন্যতম । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হাজ্জের ভাষণে জিলক্বদ, জিলহজ্জ, মুহাররম এবং রজব—এই চারটি মাসকে অতি সম্মানিত বলে উল্লেখ করেছেন ।

জিলহজ্জ মাসের বেশ কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

* এটি পবিত্র হজ পালনের প্রধান মাস ।

* এই মাসেই রয়েছে আরাফা, মুযদালিফা ও মিনায় অবস্থানের মতো মহান ইবাদত ।

* এটি কুরবানি আদায়ের মহিমান্বিত মাস ।

* এই পবিত্র মাসেই ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহ—সালাত, সিয়াম, সদকা ও হজের এক অপূর্ব সমাবেশ ঘটে ।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রথম দশ দিনের ফযীলত

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাজরে ইরশাদ করেছেন, *”শপথ ফজরের, এবং শপথ দশ রাতের।”* বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসীরের মতে, এখানে ‘দশ রাত’ বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনকেই বোঝানো হয়েছে । এছাড়া সূরা হজের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা যে ‘নির্দিষ্ট দিনসমূহে’ আল্লাহর স্মরণের নির্দেশ দিয়েছেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে তা জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনকে নির্দেশ করে ।

হাদীস শরীফে এই দিনগুলোর আমলকে সর্বোত্তম মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: *”আল্লাহর নিকট জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই।”* সাহাবাগণ যখন জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, *”আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে তার সর্বস্ব নিয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করল এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসল না (শহীদ হয়ে গেল)।”* অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, এই দশ দিনের প্রতিটি দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমান এবং প্রতিটি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমতুল্য ।

সেরা ১০ দিনের করণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

এই বরকতময় দিনগুলোতে আমাদের অবহেলা না করে বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত। নিচে জিলহজ্জের প্রথম দশকের প্রধান আমলগুলো আলোচনা করা হলো:

১. হজ ও উমরাহ পালন: জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের সর্বোত্তম পুণ্যকাজ হলো সামর্থ্যবানদের জন্য হজ ও উমরাহ পালন করা । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করল এবং কোনো অশ্লীল বা অন্যায় কাজ করল না, সে যেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এলো । তবে মনে রাখতে হবে, হজের এই মহান ইবাদত সম্পূর্ণ হালাল উপার্জন দিয়ে এবং লোকদেখানো মানসিকতা এড়িয়ে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে ।

২. চাঁদ দেখা ও দুআ করা:  জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা সুন্নাত । চাঁদ দেখার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করে নিরাপত্তা, ঈমান ও শান্তির জন্য বিশেষ দুআ পাঠ করতেন ।

৩. তওবা ও গুনাহ বর্জন: আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং সব ধরনের গুনাহ (যেমন—হিংসা, গীবত, মিথ্যা ও অহংকার) থেকে দূরে থাকা এই সময়ের অন্যতম দাবি । তওবার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আনুগত্যের পথে ফিরে আসে । প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার’ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করা উচিত ।

৪. যথাসময়ে সালাত ও নফল ইবাদত: পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত জামায়াতের সাথে আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত (যেমন—তাহাজ্জুদ, আওয়াবিন, চাশত) আদায় করা অত্যন্ত জরুরি ।

৫. কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ অনুধাবন: প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ ও তাফসীর বোঝার চেষ্টা করা এবং সেই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বাস্তবায়ন করা উচিত ।

৬. তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ: জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে বেশি বেশি তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল ও তাকবীর (*সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার*) পাঠ করার ব্যাপারে হাদীসে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে ।

৭. নফল রোযা ও আরাফার দিনের রোযা: জিলহজ্জের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোযা রাখা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ । বিশেষ করে ৯ জিলহজ্জ (আরাফার দিন) রোযা রাখার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, *”আরাফার দিনের রোযা পূর্বের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষমা) স্বরূপ।”* (তবে এটি হাজীদের জন্য নয়) ।

৮. কুরবানির প্রস্তুতি ও নখ-চুল না কাটা: যারা কুরবানি করার নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য জিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত শরীরের চুল, মোচ, নখ বা পশম না কাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব সুন্নাত । এর মধ্যে গভীর আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের শিক্ষা রয়েছে । এমনকি যারা কুরবানি দিতে অসমর্থ, তারাও যদি এই আমলটি করেন, তবে হাদীস অনুযায়ী তারা আল্লাহর কাছে পূর্ণ কুরবানির সওয়াব লাভ করবেন ।

৯. দান-সদকা করা: গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এতিম-মিসকীনদের খাদ্য দান করা এই দিনগুলোর অন্যতম আমল । কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর পথে দান করলে আল্লাহ তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং সদকা মানুষের গুনাহসমূহকে পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়, সেভাবে মিটিয়ে দেয় ।

১০. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া, মা-বাবার খেদমত করা এবং পারস্পরিক দূরত্বের অবসান ঘটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । হাদীস অনুযায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে আল্লাহ তার রিযিক ও আয়ু বৃদ্ধি করে দেন ।

উপসংহার

জিলহজ্জের প্রথম দশটি দিন আমাদের অলসতা বা মোবাইল-গেমসের মতো অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় নষ্ট করা উচিত নয়। পরিবার-পরিজনকে সাথে নিয়ে ঘরে একটি ইবাদতপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা এবং বেশি বেশি জিকির, দুআ ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করাই হোক আমাদের এই মৌসুমের মূল লক্ষ্য। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সেরা দিনগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD