গিয়ার বদলে বিশ্বকাপ এবার গলি থেকে রোমাঞ্চের রাজপথে উঠতে যাচ্ছে। আজ রাত ১টায় কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স এবং আগামীকাল সকাল ৭টায় মাঠে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রান্তে দুই আফ্রিকান প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আই-গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সেনেগাল। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে জে-গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে আলজেরিয়া।
আসরের তুমুল ফেভারিট দুই দলের প্রথম ম্যাচে সবার চোখ থাকবে দুই মহাতারকা মেসি ও এমবাপ্পের দিকে। ফ্রান্সের ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক এমবাপ্পে ২০২২ কাতার আসরে সর্বোচ্চ আট গোল করেও শেষ লড়াইয়ে হার মেনেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসির কাছে। ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে মেসি করেছিলেন সাত গোল। ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা ঘুচে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘আমার আর কিছু চাওয়াপাওয়ার নেই।’
অবসরের প্রচ্ছন্ন আভাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দলের প্রাণভোমরা হয়েই খেলতে নামছেন মেসি। ক্ষিপ্রতা ঈষৎ কমলেও বয়স তার জাদুকরী ফুটবলে ছোবল দিতে পারেনি। অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বপ্নসারথি ২৭ বছর বয়সি এমবাপ্পে এখন আরও পরিণত। ফ্রান্সের জার্সিতে অলিভিয়ের জিরুর সর্বোচ্চ ৫৭ গোলের রেকর্ড ছুঁতে তার দরকার মাত্র এক গোল।
সেনেগালের বিপক্ষে আজই রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলে আর্জেন্টানার প্রথম ফুটবলার হিসাবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করবেন মেসি। তার সামনে আছে আরও বড় কীর্তির হাতছানি। বিশ্বকাপে জার্মান গ্রেট মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁতে মেসির (১৩) দরকার তিন গোল। এমবাপ্পেরও (১২) সুযোগ আছে এই রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার। ক্লোসার কথায়, ‘আমি চাই রেকর্ড মেসির হোক। আমি তার বিশাল ভক্ত। সে সত্যিকারের জিনিয়াস।’ ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে মেসির প্রতিপক্ষ ছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। ২০ বছর পর ষষ্ঠ ও সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে মেসির প্রতিপক্ষ জিদানের ছেলে লুকা জিদান! জাতীয়তা বদলে দাদা-দাদির দেশ আলজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন গোলকিপার লুকা। প্রথম ম্যাচে মেসিদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন আলজেরিয়া অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ। গত আসরে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারায় ১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
সাদিও মানের সেনেগালকে নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও। ২০০২ বিশ্বকাপে এই সেনেগালের কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ফ্রান্স। তবে এমবাপ্পে, দেম্বেলের বর্তমান ফ্রান্সকে হারানো সেনেগালের জন্য অনেকটা দিবা স্বপ্নের মতোই।
(যুগান্তর)