বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন




চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা তো এমনই হতে হয়!

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১০:৩৫ am
মেসি Argentina Argentine Footballer Lionel Andrés Messi আর্জেন্টিনা তারকা লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা
file pic

লাতিন আমেরিকার ৪ দল মিলে একটা জয়ও বের করে আনতে পারেনি শেষ এক সপ্তায়। যার ৩টির বিপক্ষেই আবার কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ধুঁকেছিল আর্জেন্টিনা। বছরের শুরুতে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষেও ধুঁকতে থাকা দলটা বিশ্বকাপে কী করবে? সে প্রশ্ন কি ছিল?

তাদের প্রাণভোমরা মেসিকে নিয়েও তো ফিসফাস ছিল! ৩ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলের তীর্থস্থান ইউরোপীয় ফুটবলে অনুপস্থিত তিনি; খেলছেন মেজর লিগ সকারে, বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে যাদের অবস্থান সবার নিচে।

তবে সেসব প্রশ্ন, ফিসফাসের বিপক্ষে যুক্তিও ছিল। এই আর্জেন্টিনা তো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তারা না পারলে পারবে আর কারা! সে যুক্তিটাকেই আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে তুলে ধরতে হতো। আকাশী-সাদারা সেটাই করল। মেসির পায়ে ভর করে ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলল আফ্রিকান দলটাকে।

শুরুটা করেছিলেন মেসি, সেটা চতুর্থ মিনিটে। বলটা জালে জড়ালেন বটে, কিন্তু সেটা কাটা পড়ল অফসাইডের পতাকায়। এরপর আলজেরিয়াও ভয় ধরিয়ে দিল, ফারেস শাইবি বল জালে জড়ালেন এমি মার্তিনেজকে ফাঁকি দিয়ে। তবে সেটাও কাটা পড়ল ওই অফসাইডেই।

তখন কি একটু করে শঙ্কা ভর করেছিল আলবিসেলেস্তেদের মনে? সাড়ে ৩ বছর আগে এরকমই এক বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এশিয়ান প্রতিপক্ষের সামনে অফসাইডে কাটা পড়েছিল আর্জেন্টিনার গোল, প্রতিপক্ষও এরপর ভালো খেলতে শুরু করেছিল! শঙ্কার জায়গা তাই ছিলই!

সে শঙ্কাটা দূর করা প্রয়োজন ছিল। মেসি সেটা করলেন। তাকে আরও ভালোভাবে পড়তে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন রদ্রিগো দে পল। সে কানেকশনই যেন কাজে দিল। আলজেরিয়ার ৪ মিডফিল্ডারকে ফাঁকি দিয়ে তাই মেসিকে খুঁজে পেতে কোনো সমস্যাই হয়নি তার। সে পাস থেকে জোন ১৪তে অনেকটাই ফাঁকা জায়গা পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকেও তার বিপদের কারণ হয়ে ওঠার জন্য ওটুকুই যথেষ্ট। সেখান থেকে কামান দাগালেন ফারপোস্ট লক্ষ্য করে, সেটা গিয়ে আছড়ে পড়ল জালে।

সে গোলের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণে ওঠা যেন একটু কমিয়ে দিয়েছিল। আলজেরিয়া গোল খেয়ে ভড়কে গেলেও সময়ের সাথে সাথে মোমেন্টাম তৈরি করছিল। হয়েছিল একাধিক আক্রমণও। তবে সেসব সামলে আকাশী-সাদারা বিরতিতে যায় এগিয়ে থেকেই।

বিরতির পর একটু সময় নিয়ে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। গোলের অপেক্ষাটা শেষ হয় মেসিকে দিয়ে। সেটা বোধ করি মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার তো বটেই, গোটা ক্যারিয়ারেরই সবচেয়ে সহজ গোল। আগের বিশ্বকাপে মেসি পেনাল্টি থেকে ৪ গোল করেছিলেন। এটাকেও চাইলে আপনি ‘পেনাল্টি’ ধরতেই পারেন। সেই ডটটার কাছেই বলটা পেলেন। তার আগে বক্সের বাইরে থেকে শটটা নিয়েছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, তার শট লুকা জিদান ঠেকাতেই বলটা গিয়ে পড়ে মেসির পায়ে, গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটা জালে জড়াতে তেমন বেগই পেতে হয়নি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে।

বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক কখনো পাননি মেসি। সেটার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন তিনি, জিদান একাই ঠেকিয়ে দেন তার ৭০ মিনিটের সে শটটা। তবে কিছুক্ষণ পর আর পারলেন না। ৭৬ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে নিকোলাস গনজালেসের বাড়ানো বলটা পেয়ে সেখান থেকেই ২ ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আলজেরিয়ার জাল কাঁপিয়ে দেন মেসি। আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় গোলের পরই। তৃতীয় গোলের পর তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশই রইল না।

বিশ্বকাপ জিতেছেন, আরও একটার ফাইনালে খেলেছেন মেসি। কিন্তু হ্যাটট্রিকের আনন্দ কখনো করতে পারেননি। ১২ বছর আগে কাছাকাছি গিয়েছিলেন খুব। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন জোড়া গোল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ৩০ মিনিট বাকি থাকতেই সেদিন তুলে নিয়েছিলেন কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়া। তা না হলে হয়তো সেদিনই এই আনন্দে মাততে পারতেন লা পুলগা। সেদিন না পারলেও ১২ বছর পর সে আক্ষেপটাও ঘোচান তিনি।

সে ম্যাচের মতো এদিনও তাকে তুলে নেওয়া হলো। কারণ বিশ্বকাপটা বেশ লম্বা, আর কন্ডিশনটাও ফুটবলের জন্য বেশ কঠিন। তবে ডাগআউটে ফেরার সময় মেসি পেলেন স্ট্যান্ডিং অভেশন, তার যে ক্যারিয়ার, সে হিসেবে এটা তার পাওনাই; এই রাতে যে পারফর্ম্যান্সটা তিনি দিয়েছেন, তারপর তো অবশ্যই।

ম্যাচের আগে দু’দিক থেকে প্রশ্ন, ফিসফাস, চাপান উতোর– যাই হোক, তা ছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তার সবটাই উড়িয়ে দিয়েছেন মেসি, তার ডানায় ভর করে সেসব উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনাও।

আর তাতে একটা বার্তাও দেওয়া হয়ে গেল বিশ্বকাপে হাজির আর সবাইকে। চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা তো এমনই হতে হয়! নাকি?

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD