বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন




যুদ্ধবিরতি শেষ, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি চাই না: ট্রাম্প

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫২ pm
Donald Trump USA President ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি
file pic

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি শেষ হয়ে গেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে আবর্জনা ও উন্মাদ বলে সমালোচনা করেন। সম্মেলনে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পাল্টাপাল্টি হামলার পরও যুদ্ধবিরতি টিকে আছে কি না। জাবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি শেষ। তাদের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করতে চাই না। তারা একটি আবর্জনা।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা জঘন্য, মানসিকভাবে অসুস্থ কিছু মানুষ তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা চরম হিংস্র ও সহিংস প্রকৃতির লোক। তাদের কাছে যদি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা সেটি ব্যবহার করত।’

গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এ সময়ে প্রতিনিধিরা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা করবেন। ট্রাম্প জানান, ইরানিদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকা মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। এখন আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ তেহরানের ওপর নির্ভর করছে। একই সময় তিনি বলেন, ‘আমার মতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা মানে কেবলই সময়ের অপচয়। তারা মিথ্যাবাদী।’

সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছিল, তা নিয়ে ইরানিরা বারবার মিথ্যাচার করেছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছিল। আমরা একটি চুক্তি করলাম। আর তারা বাইরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মজা করে বলল, আমরা নাকি এ বিষয়ে কখনও কথাই বলিনি। তাদের সমস্যা আছে, তারা আসলেই উন্মাদ।’

ফের হরমুজ ঘিরে শঙ্কা
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ফের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। কৌশলগত জলপথটি বর্তমান উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ।

প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার বিষয়ে তেহরান অনড় অবস্থানে আছে। তাদের দাবি, এখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছে থেকে ‘সার্ভিস ফি’ আদায় করা হবে। একই সঙ্গে তাদের অনুমোদিত রুট বা পথ এড়িয়ে যেসব জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করবে সেগুলোর উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া বলেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় তেহরান কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।

দেশটির সামরিক বাহিনী গত কয়েক দিনে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর জেরে মঙ্গলবার রাতে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই হামলার জবাবে বুধবার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

তুরস্কের আঙ্কারায় চলমান ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা চালানো জরুরি ছিল। তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোরালো জবাব দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD