শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন




১০ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৩১১২ কোটি টাকা

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৩ ১২:৩৪ pm
ecnec প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির একনেক Executive Committee of the National Economic Council এনইসি সম্মেলন একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী পিআইডি Prime Minister Sheikh Hasina Wazed প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
file pic

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার কৃচ্ছ্রসাধন নীতি নিলেও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন কারণেই উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মেয়াদ। আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যেসব প্রকল্প উঠছে, তার মধ্যে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রকল্প প্রস্তাবই বেশি। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে তিন হাজার ১১২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের অষ্টম একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৭টি এবং বাকি ১০টি সংশোধনী প্রস্তাব। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেয়াদে বাস্তবায়ন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংশোধনী প্রকল্প প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বাড়ছে ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ প্রকল্পে। প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বাড়ছে। এর আগেও এই প্রকল্পে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৪৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্প প্রস্তাব থেকে জানা যায়, প্রথমে ৬০২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। পরে কয়েক দফায় বাড়ানো হয় ব্যয় এবং মেয়াদ।

এ ছাড়া পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তায় নেওয়া ‘৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ছে ৩৩৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছিলে ৯৮৭ কোটি টাকা। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ফের খরচ ও মেয়াদ বাড়ছে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে। ‘ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব নতুন করে খরচ বাড়ছে ১৪২ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে এক বছর ৬ মাস বাড়ছে মেয়াদ। জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ১৬ কোটি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রকল্পে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয় কমছে। ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর সিক্স এনওসিএস ডিভিশন আন্ডার ডিপিডিসি’ শীর্ষক প্রকল্পে সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যয় কমিয়ে ১৩২ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের প্রস্তাবে বলেছে, প্রকল্পের কার্যক্রমে পরিবর্তন, ডলার সংকট, বেতন ভাতা এবং স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্পের মেয়াদ এবং ব্যয় বৃদ্ধি করতে হয়। এ ছাড়া সময় বাড়লে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

ব্যয় এবং মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি, উপকরণের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে ব্যয় বাড়ছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণেও বাড়ছে প্রকল্প ব্যয়। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্প শেষ করতে না পারায় নিয়মিতই সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আসছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। বাস্তবতা এবং একান্ত প্রয়োজন হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশন সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করছে। তবে প্রকল্পে বারবার সংশোধনী কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে প্রচুর অর্থের অপচয় হয়। তা সত্ত্বেও মেয়াদ বাড়ানো এখন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যৌক্তিক কারণ থাকলে অবশ্যই মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে কেন মেয়াদ বাড়ানোর দরকার, তার যথার্থ পর্যালোচনা দরকার।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD