দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় নাম রয়েছে যাদের-
১. সেলিমা রহমান
২. শিরিন সুলতানা
৩. রাশেদা বেগম হিরা
৪. রেহানা আক্তার রানু
৫. নেওয়াজ হালিমা আর্লি
৬. মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন
৭. বিলকিস ইসলাম
৮. শাকিলা ফারজানা
৯. হেলেন জেরিন খান
১০. নিলুফার চৌধুরী মনি
১১. নিপুণ রায় চৌধুরী
১২. জেবা আমিন খান
১৩. মাহমুদা হাবিবা
১৪. সাবিরা সুলতানা
১৫. সানসিলা জেবরিন
১৬. সানজিদা ইসলাম তুলি
১৭. সুলতানা আহমেদ
১৮. ফাহমিদা হক
১৯. আন্না মিঞ্জ
২০. সুবর্ণা শিকদার
২১. শামীম আরা বেগম স্বপ্না
২২. শাম্মী আক্তার
২৩. ফেরদৌসী আহমেদ
২৪. বিথীকা বিনতে হুসাইন
২৫. সুরাইয়া জেরিন
২৬. মানছুরা আক্তার
২৭. জহরত আদিব চৌধুরী
২৮. মমতাজ আলম
২৯. ফাহিমা নাসরিন
৩০. আরিফা সুলতানা
৩১. সানজিদা ইয়াসমিন
৩২. শওকত আর আক্তার
৩৩. মাধবী মারমা
৩৪. সেলিনা সুলতানা
৩৫. রেজেকা সুলতানা
৩৬. নাদিয়া পাঠান পাপন
তালিকার বাকি ৮ জন এর আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন। তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহানা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি।
তালিকায় এমন ২ জন নারী স্থান পেয়েছেন, যাদের স্বামী, বাবা কিংবা শ্বশুর সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন। এরা হলেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী। তার বাবা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আর শ্বশুর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আরেকজন হলেন শিরিন সুলতানা। তার স্বামী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন এমন ৩ জনও সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। এরা হলেন, ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা, শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন।
মহিলা দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ২ জন। তারা হলেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন, ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা, নাদিয়া পাঠান।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ১ জন মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার। তিনি এবারের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হবেন। তার বাবা প্রয়াত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।
তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, এমন কয়েকজন সংরক্ষিত কোটায় মনোনয়ন পেয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন- জহরত আবিদ চৌধুরী। তিনি মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও।
এ ছাড়া মনোনয়ন পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, যারা অভিজ্ঞ, রাজপথে নিপীড়িত ও নির্যাতিত তারাই মূল্যায়িত হয়েছেন। এটা দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ প্রকাশ হয়। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এই তালিকা আজ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যেমন অভিজ্ঞরা রয়েছেন তেমনি রয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব।
এর আগে গত শুক্র ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দলটির স্থায়ী কমিটিসহ মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনে প্রায় সাড়ে আটশ নারীনেত্রী ওই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। পরে তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করেন বোর্ডের সদস্যরা।
এদিকে, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য গত ১২ দিনে বিএনপিসহ তিনটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৪৩১ জন।
সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপসচিব মো. মনির হোসেন জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মাত্র তিনজন। ইসির তথ্য বলছে, উত্তোলন করা ৪৩১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ৪১৭, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১৩ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়েছে।