সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন




তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পোশাক খাতে

উৎপাদন ও বিপণন খরচে বড় ধাক্কা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩৫ am
Textiles Textile garment factory garments industry rmg bgmea worker germent পোশাক কারখানা রপ্তানি শিল্প শ্রমিক আরএমজি সেক্টর বিজিএমইএ poshak shilpo পোশাক খাত
file pic

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গার্মেন্ট সেক্টরে উৎপাদন ও বিপণন খরচে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যেভাবে জ্বালানি তেলসহ গ্যাস, ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ছে এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে জ্বালাানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ছোট ও মাঝারি গার্মেন্ট মালিকদের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। এদিকে সুতাসহ কাঁচামালের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে কনটেইনার ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে গার্মেন্ট সেক্টরে প্রতিনিয়ত অর্ডার কমছে। আর ভারত, ভিয়েতনাম, তুরস্কে অর্ডার বাড়ছে।

কথা হয় বাংলাদেশ নিট ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারস অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সঙ্গে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে-এটা স্বাভাবিক। কারণ সরকার বেশি মূল্য দিয়ে জ্বালানি ক্রয় করছে। দাম সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দাম বাড়ানোর পর কি আমরা কি জ্বালানি তেল পাচ্ছি। প্রতিদিন বিভিন্ন কারখানার মালিক ফোন করে বলছেন, ফ্যাক্টরির জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি পাচ্ছেন না। এটা সমাধান হওয়ার দরকার।

বিকেএমইএর সভাপতি হিসাবে জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, বিপিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। সরকার নানাভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে কিন্তু সমাধান এখনো হয়নি। ইরান, ইসরাইল-আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় জ্বালানি সংকট কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা নিয়ে চিন্তিত শিল্পমালিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপান খরচ বাড়বে। কিন্তু দাম বাড়ার পরওই কি আমি নিরবচ্ছিন্ন ভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারব। আমি কি সময়মতো উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারব। বায়াররা এটা নিয়ে শঙ্কিত। ফলে অর্ডার কমছে। ইউরোপসহ ক্রেতা দেশগুলো পাশের রাষ্ট্র থেকে পণ্যের অর্ডার করছে। যেমন ইউরোপ পাশের দেশ তুরস্ক থেকে তাদের পণ্য কিনছে। সামনের দিনগুলোতে অর্ডার আরও কমবে।

তিনি বলেন, গার্মেন্ট মালিকরা ইতোমধ্যে যে অর্ডারগুলোর দাম সেটেল করে ফেলেছেন তারা তো বায়ারের কাছ থেকে বর্ধিত মূল্য নিতে পারবেন না। ফলে গার্মেন্ট মালিকদের কাছে এটা বড় ধরনের লস। এভাবে লস দিতে গিয়ে লসের পরিমাণ পাহাড়সম হচ্ছে। কারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জে কায়েমপুর এলাকার মডেল ডি ক্যাপিটাল স্বত্বাধিকারী মাসুদুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু এই দাম বৃদ্ধির কারণে গার্মেন্ট সেক্টরে অনেক প্রভাব পড়বে। বিশ্বাবাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে সুতাসহ কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে কনটেইনার ভাড়াসহ নানা খরচ বেড়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি পণ্য উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ পড়ছে ৭ সেন্ট, কিন্তু বায়ার দাম দিচ্ছেন ৫ সেন্ট। কিন্তু বায়ার প্রতিষ্ঠান সেভাবে মূল্য শেয়ার করছে না। যার কারণে গার্মেন্ট মালিককে ভর্তুকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দুরূহ হয়ে পড়েছে।

বিসিকের আরেক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী জামান হোসেন জানান, যেভাবে অর্ডার কমছে তাতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের কারণে ভাড়া বাড়বে, উৎপাদন খরচ বাড়বে। এটা হতো সামায়িক ভাবে ব্যবসায়ীরা লস দিয়ে যাবে। কিন্তু যদি বায়াররা অর্ডার না দেয় তবে কি হবে সেটা নিয়ে এখন চিন্তায় আছি। অপর এক ব্যবসায়ী জানান, বৈশ্বিক ক্রাইসিসের কারণে তেলের দাম বাড়ছে এটা তেমন কোনো বিষয় নয়। এটা ব্যবসায়ীরা বহন করে নেবেন। কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকার কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশে অর্ডার দিচ্ছেন না। তারা চায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা। যে কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরে অর্ডার নিয়মিত কমছে। প্রতিযোগী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, তুরস্ক এসব দেশে অর্ডার বাড়ছে। কারণ বায়াররা অর্ডার দিচ্ছে তারা চান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। যাতে নির্দিষ্ট সময়ে বায়াররা তার পণ্যটি পায়। কারণ বর্তমান যে প্রেক্ষাপট তাতে বায়াররা বুঝতে পারছে আগামীদিনগুলোতে বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে। এসব শঙ্কা থেকেই দিন দিন অর্ডার কমছে।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD