বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন




৮০ কার্যদিবস অনুপস্থিত, সংসদকে না জানিয়েই ৯ মাস বিদেশে

খন্দকার মোশাররফ কি এমপি পদ হারাচ্ছেন?

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৩ ২:০৫ pm
JS Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট
file pic

প্রথমে বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে। এরপর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরানো হয়। সর্বশেষ সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদও হারিয়েছেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এখন তার এমপি পদও ঝুঁকির মুখে। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য টানা ৯০ কার্যদিবস সংসদ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। সেই হিসাবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তার টানা অনুপস্থিতির সংখ্যা ৮০ কার্যদিবস।

বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি সেখানে যান। বর্তমানে চলছে একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন। গত ৫ই জানুয়ারি এই অধিবেশন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ হিসাবে সংসদ অধিবেশনের জন্য রয়েছে আরও ১৭ কার্যদিবস।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন, আপাতত তিনি দেশে ফিরছেন না। সংসদের চলতি অধিবেশনের আরও ১০ কার্যদিবসে তিনি অনুপস্থিত থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।

এমপি পদ বাতিল সম্পর্কে সংবিধানের ৬৭ ধারায় বলা হয়েছে- কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি (ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন। (খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাধিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন (গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায় (ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান অথবা (ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ক্ষেত্রে টানা ৯০ দিন অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সংসদে আর কোনো এমপি’র এতদিন টানা অনুপস্থিতির রেকর্ড নেই। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মানবজমিনকে বলেন, সাধারণত কোনো এমপি দেশের বাইরে গেলে স্পিকারকে নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করে যান। দরখাস্তের মাধ্যমে ওই নোটিশ করা হয়। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদেশে যাওয়ার আগে কোনো নোটিশ করে যাননি। তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কতোদিনের জন্য যাচ্ছেন সে বিষয়ে স্পিকারকে কিছু বলেননি।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ঠা এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। সেটা ছিল একাদশ জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশন। মাত্র তিন দিনের জন্য ওই অধিবেশন বসে।

এ প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে যদি কোনো এমপি দেশের বাইরে যেতে চান তাহলে দরখাস্তের মাধ্যমে আমাকে অবহিত করে যেতে হবে। কিন্তু খন্দকার মোশাররফ হোসেন যখন দেশের বাইরে যান তখন সংসদ অধিবেশন চলছিল না। এক্ষেত্রে অবহিত করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনেক এমপি অধিবেশনের বাইরে বিদেশে গেলে আমাকে অবহিত করে যান। সংসদ সদস্য পদ বাতিল প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তখন বিষয়টি বিধি অনুসারে বিবেচনা করা হবে।

একই প্রসঙ্গে সংসদ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, টানা দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে হয়তো উনাকে সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে তার অনুপস্থিতির সংখ্যা প্রায় ৯০ দিনের কাছে চলে যাচ্ছে। তাই ৯০ দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

এদিকে রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৫শে মার্চ তিনি সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে কমিটির ৮ম মিটিং করেন। এরপর ১০ মাস অতিবাহিত হতে চললেও তিনি কমিটির আর কোনো মিটিং করেননি। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রতি মাসে কমিটির অন্তত একটি বৈঠক করার বিধান রয়েছে। রোববার ওই কমিটির সভাপতির পদ দেয়া হয়েছে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদকে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ২০০৯ সালে তাকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী করা হয়। পরে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফরিদপুরে দলীয় রাজনীতিতে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বলয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। এ সময় তার অনুগতরা বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও জমি দখল করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন।

২০২০ সালের ৭ই জুন বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত এবং তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই দু’জনই খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

এর দুই দিন পর ৯ই জুন খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকায় চলে আসেন। এরপর ওই বছরের ১৪ই জুলাই এক রাতের জন্য ফরিদপুর গিয়েছিলেন খন্দকার মোশাররফ। তারপর তার চাচির জানাজায় অংশ নিতে আরেকবার ফরিদপুর যান ২০২১ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি। এরপর তাকে আর নিজের নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায়নি।

এদিকে গত ২৪শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ পড়েন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। [মানবজমিন]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD