সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন




প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২৫ কোটি ডলারের চুক্তি হতে পারে

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩ ১২:৩৬ am
Prime Minister Sheikh Hasina Wazed প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা Sheikh Hasina Prime Minister Bangladesh প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা Cabinet Secretary মন্ত্রিপরিষদ hasina pmhasina mp
file pic

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১ মে সংস্থার ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে এই অনুষ্ঠান হবে।

এই সফরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একাধিক প্রকল্পে অন্তত ১২৫ কোটি ডলারের ঋণসহায়তার চুক্তি হতে পারে। বর্তমান বাজারদরে এর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ঋণচুক্তি হতে পারে, এমন দুটি প্রকল্পের দর-কষাকষি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। দর-কষাকষি শেষ হলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে চুক্তি হতে পারে। এই দুটি প্রকল্পের একটি হলো আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ করে নেপাল ও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সড়কসহ অন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এই প্রকল্পে ৭৫ কোটি ডলার ঋণ দিতে পারে বিশ্বব্যাংক।

অন্যদিকে ভাঙন থেকে নদীতীর রক্ষা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের আরেকটি প্রকল্পে ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই প্রকল্পের আওতায় মূলত প্রকল্প এলাকায় বন্যাসহ অন্যান্য দুর্যোগ থেকে মানুষ বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এগুলো অন্য সময় স্কুল ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

জানা গেছে, আরও দুই-তিনটি প্রকল্পে ঋণসহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দর-কষাকষি চূড়ান্ত হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এসব ঋণচুক্তি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘অর্থনীতির এই সময়ে বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি জোর দেওয়া উচিত। আগামী অর্থবছরে এমনিতেই বড় রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। সেই হিসাবে বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট যে দুটি প্রকল্পের কথা হচ্ছে, তা ঠিকই আছে।’

তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তযোগাযোগের দরকার। এতে পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। ঋণ আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী। প্রধানমন্ত্রীর সফর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করবে। সফরকালে নতুন করে অর্থসহায়তার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে।

যা থাকছে ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠানে

আগামী ১ মে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে দুই দেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ঢাকায় প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যোগ দেন। তখন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যাক্সেল ফন ট্রটসেনবার্গ এসেছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, সমাপনী অনুষ্ঠানের দিন সকালে একটি আলোচনা সভা হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বক্তব্য দেবেন। আলোচনা সভায় বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক ঋণচুক্তি হতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা নিয়ে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর বাইরে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত করছেন।

বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরের অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষে ওয়াশিংটন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী জাপান যাবেন। সেখানে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর জাপান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থ ছাড় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশকে সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ কাজে লেগেছে দারিদ্র্য বিমোচনে। রাস্তাঘাট, ভবনসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণেও অর্থ দিয়েছে এই বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাংক দশকের পর দশক অর্থ দিয়ে আসছে। বর্তমানে ৫৭টি চলমান প্রকল্পে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বিশ্বব্যাংক।

সত্তরের দশকে মূলত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রকল্পেই বেশি অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। আশির দশকে কৃষি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে তারা। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে সংস্কারে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প হয়। এ দুটি প্রকল্প হলো বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু (যমুনা সেতু) এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (দুই লেন) নির্মাণ। এ ছাড়া তাদের সহায়তায় ২৬টি জেলায় মোট ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পল্লি সড়ক নির্মাণ করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গত পাঁচ দশকের সম্পর্ক সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে। পদ্মা সেতুতে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল। পদ্মা সেতুই হতে পারত কোনো একক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে বড় অর্থায়ন। কিন্তু দুর্নীতি হতে পারে, এমন অভিযোগ এনে ২০১১ সালে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় সংস্থাটি। সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কানাডার আদালত, কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

 




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD