ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধিদল মনে করছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দেশটির অঙ্গীকারের ‘লিটমাস পরীক্ষা’।
দলটির কো-চেয়ার কার্ল এফ ইনডারফুর্থ বলেন, “আমরা মনে করি প্রাথমিক সমস্যাটি হলো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ‘কনস্ট্রাকটিভ এনগেজমেন্টে’র অভাব।”
যুক্তরাষ্টের প্রতিনিধিদল বলে, বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দৃঢ় ঐতিহ্য দেশটির একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ২০৪১ সালের রূপকল্প অর্জনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ দেশটির নির্বাচনী অখণ্ডতার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে যার মধ্যে রয়েছে আপসহীন রাজনীতি, আক্রমণাত্মক বক্তৃতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, অনিশ্চয়তা আর ভয়ের বিস্তৃত পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং নাগরিক-রাজনৈতিক নেতা ও অন্যান্য অংশীজনদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারী, যুব সমাজ ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয় বলেও মত দেয় প্রতিনিধিদলটি।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল নির্বাচনী অংশীজনদের বিবেচনার জন্য পাঁচটি সুপারিশ রেখেছে-
সহনশীল বক্তৃতা ও নির্বাচনী মুখ্য ইস্যুতে খোলামেলা-অর্থবহ সংলাপে বসা;
বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে ভিন্নমতকে সম্মান করা হয়;
সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা;
স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনাকে শক্তিশালী করাসহ সব দলের অর্থবহ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরি করা;
এবং নাগরিকদের মধ্যে সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে অংশগ্রহণের সংস্কৃতি তৈরি করা
গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবর বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পরিস্থিতি যাচাই করতে যৌথভাবে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রাক-নির্বাচন সমীক্ষা মিশন পরিচালনা করে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)।
সংস্থা দুটি সম্মিলিতভাবে গত ৩০ বছরে ৫০টিরও বেশি দেশে ২০০টিরও বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।
প্রতিনিধিদলে কো-চেয়ার হিসেবে ছিলেন স্টেট ফর সাউথ এশিয়ান অ্যাফেয়ার্সের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কার্ল এফ ইনডারফুর্থ এবং ইউএসএআইডি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সাবেক ডেপুটি বনি গ্লিক। আরও ছিলেন মালয়েশিয়ার সাবেক হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সদস্য মারিয়া চিন আবদুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাবেক সহযোগী কাউন্সেল জামিল জাফর, এশিয়া-প্যাসিফিকের এনডিআই রিজিওনাল ডিরেক্টর মনপ্রীত সিং আনন্দ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আইআরআইয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও।