সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন




সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া যাবে না

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩ ১২:২০ pm
file pic

অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়ে চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত বাজেটে কোনো মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাইতে পারবে না। এছাড়া, বিদ্যমান নীতিমালার পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধনে বিভিন্ন সময়ে জারি করা পরিপত্রের আলোকে সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে নিজ নিজ সংশোধিত বাজেটের প্রাক্কলন নির্ধারিত ফরমে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ নভেম্বর) অর্থ বিভাগ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন (পরিচালন ও উন্নয়ন) প্রণয়ন শীর্ষক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো পদ্ধতির আওতায় সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চলতি অর্থবছরের বাজেট সুষ্ঠুভাবে ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এতে বলা হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৭৫ শতাংশ এবং পেট্রোল, অয়েল, লুব্রিকেন্ট, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এছাড়া, উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের যানবাহন (মোটরযান, জলযান, আকাশযান) ক্রয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ও ভূমি অধিগ্রহণ খাতে পরিচালন বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখা এবং পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ/ওয়ার্কশপ/সেমিনারে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার অবশ্যই মূল বাজেটে উল্লেখিত মোট ব্যয়সীমার (পরিচালন ও উন্নয়ন) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকবে বলে অনুমিত হলে ওই অব্যয়িত অর্থ কোনোক্রমেই পরিচালন বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না।

বাজেট পরিপত্রে সংশোধিত রাজস্ব ও মূলধন প্রাপ্তি প্রাক্কলনের হিসাবের বিষয়ে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে গত দুই (২০২১-২০২২ ও ২০২২-২০২৩) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম চার/পাঁচ মাসের রাজস্ব আদায়ের ধারা বিবেচনায় নিতে হবে।

পরিপত্রে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নে ১৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে—সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে এবং মূল সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দহীন কোনো প্রকল্প রাখা যাবে না। সরকারের কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের আলোকে অগ্রাধিকার বাছাই করে অন্যান্য কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিতে হবে। সংশোধিত এডিপির মূল অংশে বরাদ্দবিহীন কোনো প্রকল্প রাখা যাবে না।

চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন কাজ শেষ হবে, এমন সব প্রকল্পের বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখতে হবে। ধীরগতিসম্পন্ন প্রকল্প থেকে বরাদ্দ কমিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন গতিসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে হবে। বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা-উত্তর পুনর্বাসন সম্পর্কিত প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অপরিহার্য নতুন প্রকল্পে স্থানীয় মুদ্রা বরাদ্দের ক্ষেত্রে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় মুদ্রার বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

বৈদেশিক ঋণ/অনুদানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এবং চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, এমন সব প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে অগ্রাধিকার পাবে। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে পিএল/জি অংশ সম্পূর্ণ ব্যয় করা যাবে এবং সে ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের অংশে প্রয়োজনীয় অর্থে সংস্থান রাখতে হবে। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের এডিপিবহির্ভূত যেসব প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং যেসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অননুমোদিত কোনো স্কিমের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা যাবে না।

বাজেট পরিপত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সংশোধিত পরিচালন ব্যয় প্রণয়নে ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে—পরিচালন ব্যয় প্রাক্কলনে পূর্ববর্তী দুই (২০২১-২০২২ ও ২০২২-২০২৩) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম চার/পাঁচ মাসের ব্যয়ের ধারা বিবেচনায় নিতে হবে। তবে, শুধু বেতন-ভাতা খাতে ব্যয়ের হিসাব প্রণয়নে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া, মূল বাজেটে ছিল না, এমন কোনো সম্পদ সংগ্রহের জন্য সংশোধিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা যাবে না। চলতি অর্থবছরে অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলে সংশোধিত বাজেটে তা উল্লেখ করতে হবে বলে পরিপত্রে বলা হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD