বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন




খুলনা সিটি করপোরেশনে-কেসিসি

কেসিসি: মৃত কর্মচারীর নামে সাড়ে ৩ বছর বেতন উত্তোলন

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৮:৪৭ pm
Khulna City Corporation KCC Khulna খুলনা সিটি করপোরেশন কেসিসি খুলনা সিটি কর্পোরেশন
file pic

খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মৃত কর্মচারীর নাম বেতনের তালিকায় রেখে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। সাড়ে তিন বছরের অধিক সময় ধরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বেতন ও বোনাসের টাকা তোলা হচ্ছে। তবে এভাবে উত্তোলন করা হলেও বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ হয়।

কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি তারা অবগত হওয়ার পর সন্দেহভাজন ৪ কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন শেখ ইব্রাহিম। তার বাড়ি মহানগরীর গোবরচাকা মেইন রোড (খালাসিয়া মাদ্রাসার সামনে)। করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কনজারভেন্সি শাখার স্প্রে-ম্যান হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় ২০২০ সালের ৭ মে তিনি মারা যান। দায়িত্বে থাকাকালে শেখ ইব্রাহিম ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন।

ইব্রাহিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, তাদের ৩ সন্তান রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি করপোরেশনে যোগাযোগ করেন। কিন্তু করপোরেশন থেকে তখন তাকে মাত্র সাত দিনের বেতন দেওয়া হয়। এরপর তিনি করপোরেশন থেকে আর কোনও টাকা পাননি।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৭ মে ইব্রাহিম মারা গেলেও মাস্টাররোল শ্রমিকের তালিকায় তার নাম রয়েছে। ফলে ২০২০ সালের ৭ মে থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত বেতন, বোনাসসহ সমুদয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সাড়ে তিন বছরের অধিক সময়ে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘করপোরেশনে বর্তমানে মাস্টাররোলে ৬৫১ জন এবং আউটসোর্সিংয়ের ১৩৭ জন কর্মচারী কর্মরত। মারা যাওয়ার আগে ইব্রাহিম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাস্টাররোলে মশকনিধন কাজে স্প্রে-ম্যান ছিলেন। ইব্রাহিম মারা যাওয়ার পর থেকে তার নামে বেতন ও বোনাসের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মাস্টাররোল ও আউটসোর্সিং শ্রমিকদের বেতন শিট প্রস্তুত এবং বেতন প্রদানে আগে দায়িত্বে ছিলেন কনজারভেন্সি শাখায় কর্মরত সাইফুল ইসলাম (মাস্টাররোল শ্রমিক)। পরে দায়িত্ব পালন করেন গ্যারেজ শাখার মেকানিক সহকারী হিসেবে কর্মরত শেখ শহিদুল ইসলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘কনজারভেন্সি অফিসার হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিন মাস আগে জাহাঙ্গীর নামের এক কর্মচারীকে বেতন শিট প্রস্তুত ও বেতন বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন দেখা যায় আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাস ইব্রাহিম বেতন নিতে আসেন না। বিষয়টি নজরে আসে। যা মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।’

করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) সানজিদা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট চার জনকে শোকজ করা হয়েছে। এরা হলেন কেসিসির সাবেক প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আ. আজিজ, কনজারভেন্সি বিভাগের বড় বাবু আনোয়ার হোসেন, বর্তমান শিক্ষা শাখায় কর্মরত মাস্টাররোল শ্রমিক সাইফুল রহমান, গ্যারেজ শাখায় কর্মরত শহিদুল ইসলাম। এ চার জনকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে তা যাচাই-বাছাই চলছে। জবাব নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তদন্তও করা হবে।’

সাবেক প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আ. আজিজ জানান, বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পরই শেখ শহিদুল ইসলামকে বেতন বিতরণের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সমস্যাটি সমাধানে তার কক্ষে একটি বৈঠকও করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নই।’ একই কথা বলেন আরেক অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামও।

এদিকে কেসিসির অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘শোকজ নোটিশ পেয়ে ৪ জন আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বৈঠক করেন। বৈঠকে কে কত টাকা দেবে সে ব্যাপারে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে সাবেক প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আ. আজিজ দেবেন দুই লাখ টাকা, কনজারভেন্সি শাখার বড় বাবু আনোয়ার হোসেন দুই লাখ টাকা, শিক্ষা শাখায় কর্মরত মাস্টাররোল শ্রমিক সাইফুর রহমান এক লাখ টাকা, গ্যারেজ শাখায় কর্মরত শহিদুল ইসলাম এক লাখ টাকা ও বিল প্রস্তুতকারী রুবেল ৬০ হাজার টাকা। এই ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা তারা সাবই মিলে কেসিসির ফান্ডে জমা দেবেন। তারপর তারা মেয়রের নিকট ক্ষমা চাইবেন।’

কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ [বাংলা ট্রিবিউন]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD