মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন




যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন কে কে!

মোহাম্মদ আবুল হোসেন
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৬:৫১ pm
sanction sanctions imposes visa curbs curb নিষেধাজ্ঞা নিষেধাজ্ঞা নিষেধাজ্ঞার ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa usa us_embassy_logo
file pic

রোববার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বৃটেন সমন্বিতভাবে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সে সম্পর্কে জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন তা বিশ্বের যেখানেই ঘটুক না কেন, তা আমাদের অভিন্ন মানবিকতায় আঘাত করে। রোববার বা ১০ই ডিসেম্বর ছিল জাতিসংঘের ইউনিভার্সেল ডিক্লেয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটসের (ইউডিএইচআর) ৭৫তম বার্ষিকী। এদিনটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। এ উপলক্ষে ৮ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। তাতে ১৩টি দেশের ৩৭টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথাও বলা হয়

গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা বিশ্বের যেখানেই এ দুটি বিষয়ের ব্যত্যয় ঘটছে, সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। বার বার এ বিষয়ে কথা বলেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে বিশ্বজুড়ে সমুন্নত রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন আয়োজন করেছেন ডেমোক্রেসি সামিট। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বের যেখানেই এর অন্যথা হবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেবে তারা। একই কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন, অর্থমন্ত্রী জ্যানেট এল ইয়েলেনসহ প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও বলে আসছেন।

সর্বশেষ রোববার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বৃটেন সমন্বিতভাবে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সে সম্পর্কে জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন তা বিশ্বের যেখানেই ঘটুক না কেন, তা আমাদের অভিন্ন মানবিকতায় আঘাত করে। রোববার বা ১০ই ডিসেম্বর ছিল জাতিসংঘের ইউনিভার্সেল ডিক্লেয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটসের (ইউডিএইচআর) ৭৫তম বার্ষিকী। এদিনটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। এ উপলক্ষে ৮ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। তাতে ১৩টি দেশের ৩৭টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথাও বলা হয়। ইউডিএইচআর-এর ঐতিহাসিক ঘোষণায় সমস্ত মানুষের মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এসব অধিকার তুলে ধরা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে মানবাধিকারের পক্ষ অবলম্বন করা এবং একে সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত হরেছেন জ্যানেট ইয়েলেন। তিনি বলেছেন, এ বছর এবং গত বছর অর্থ মন্ত্রণালয় যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিযেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। এর মধ্যদিয়ে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এই ভয়াবহতা যারা ঘটাবে তাদের থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ডজনখানেক দেশের কমপক্ষে ১৫০ জন ব্যক্তি বা এনটিটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং ইউডিএইচআর-এর যে দৃষ্টিভঙ্গি তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠন, ক্রিমিনাল কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ওপর নিষ্পেষণকারী, বহুজাতিক নিপীড়ন, পরিবেশগত অপরাধ এবং পরিবেশ নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট অন্য কর্তৃপক্ষকে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এর আওতায় আসবে নাগরিক সমাজের সদস্য, বিক্ষোভকারী এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন। আরও আছে নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার, অপহরণ, লিঙ্গগত সহিংসতা।

সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন আফগানিস্তানের ফরিদউদ্দিন মাহমুদ (মাহমুদ) এবং খালিদ হানাফি (হানাফি)। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালানোর মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য। বিশেষ করে নারী ও কন্যাদেরকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখা এর মধ্যে অন্যতম কারণ। ২০২১ সালের ১৫ই আগস্ট ক্ষমতা কেড়ে নেয় আফগানিস্তানের তালেবানরা। তারপর থেকে তারা বাস্তবায়ন করে চলেছে বৈষম্যমূলক সব পলিসি। বিশেষ করে নারী ও কন্যাদের অধিকারের ডানা কেটে দিয়েছে তালেবানরা। তাদেরকে শিক্ষা, চাকরি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, চলাফেরা সহ অন্য ইস্যুগুলোতে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ, যেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা নেয়া থেকে নারীদের দূরে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে নারী ও পুরুষদের মধ্যে কড়া প্রতিবাদ হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে তালেবানরা যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা খুবই কঠোর। তাদের বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রহার করেছে। সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের অবমাননা করেছে।

তালেবানদের কথিত মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য মাহমুদ। এই মন্ত্রিপরিষদ ষষ্ঠ শ্রেণির পর নারীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আফগানিস্তানের কথিত একাডেমি অব সায়েন্সের প্রধান এই মাহমুদ। মানবাধিকারের গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস একাউন্টেবলিটি অ্যাক্টের অধীনে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এই আইনটি ব্যবহার করা হয় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এবং ভয়াবহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের টার্গেট করতে। এই আইনের অধীনে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে দায়ী বা জড়িত ব্যক্তি অথবা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কথিত প্রোপাগান্ডা অব ভার্চ্যু অ্যান্ড প্রিভেনশন অব ভাইস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কথিত মন্ত্রী হানাফি। ২০২১ সালের আগস্টের পর থেকে এই মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে আছে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, প্রহার প্রভৃতি। ইরানে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাজিদ দাস্তজানি ফরাহানি (ফারাহানি) এবং মোহাম্মদ মাহদি খানপুর আরদেস্তানি (আরদেস্তানি)-এর বিরুদ্ধে। ইরানে ক্ষমতাসীনরা বিরোধী পক্ষ এবং ভিন্নমতের গলা টিপে ধরতে আগ্রাসীভাবে টার্গেট করেন। দেশের ভেতরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ নিষ্ঠুর ব্যবস্থা নেয়। প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার থেকে খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার, আটক করে নির্যাতনের মতো পন্থা ব্যবহার করে। এ থেকে শিশুরাও বাদ যায় না।

বিরোধীদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে শাসকগোষ্ঠীর প্রচেষ্টা সীমান্তের বাইরেও বিস্তৃত। অধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং বিদেশি সরকারগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতেও তারা ছাড়ে না। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অপারেশন চালানোর জন্য বিভিন্ন জনকে দলে ফেরান ফারাহানি ও আরদেস্তানি। ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের কুদস কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী টার্গেট নিয়েছে তারা। ধর্মীয় স্থাপনা, ব্যবসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছেন। শিনজিয়াংয়ে চলমান ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চীন সরকারের দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা হলেন গাও কি এবং হু লিয়ানহে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

চীন সরকারের এই দু’ কর্মকর্তা সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ওদিকে দক্ষিণ সুদানে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে গর্ডন কোয়াং বাইয়েল (বাইয়েল), গাটলুয়াক নাইং হোথ (হোথ) এবং জোসেফ ম্যান্টিয়েল ওয়াজাং (ওয়াজাং)-এর বিরুদ্ধে। তারা যথাক্রমে কোচ কাউন্টি কমিশনার। মায়েন্দি কাউন্টি কমিশনার এবং ইউনিটি স্টেট গভর্নর। গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সরকারপন্থি বাহিনী এবং বাইয়েল, হোথের কমান্ডের অধীনে থাকা বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধের সময় পর্যায়ক্রমে নারীদের ধর্ষণ করে। এ ছাড়া অন্যান্য ভয়াবহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের অধীনে থাকা ব্যক্তিরা। ইউনিটি স্টেটের লিয়ার কাউন্টিতে সশস্ত্র হামলার সময় এসব ঘটনা ঘটায়। এ নিয়ে জাতিসংঘ তদন্ত করে। তাতে দেখা যায়, এসব সশস্ত্র গ্রুপ নারীদেরকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদেরকে ধর্ষণ করেছে। গণধর্ষণ করেছে। নারীদের অপহরণ করেছে। যোদ্ধাদের কাছে এসব নারীকে উপহার হিসেবে তুলে দেয়া হয়েছে। এমনিভাবে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরকারের তরফ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ও তাদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ থাকবেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD