শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন




আপিল শুনানি

আপিল শুনানি, তিন দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ১৬৮ জন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১:৩২ am
CEC election commission নির্বাচন কমিশন ইসি সিইসি Kazi Habibul Awal কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচন সিইসি ইসি cec ec election প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল cec নির্বাচন-Election নির্বাচন Election
file pic

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে গত তিন দিনের শুনানিতে ১৬৮ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের শুনানিশেষে এই তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন।

ইসি’র আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় দিনে ৯৮ জনের আপিল শুনানিতে ৬১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে ৩৫ জনের। আর দুইটি আবেদনের সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে দ্বিতীয় দিনে ৯৯ জনের আপিল আবেদনের শুনানি হয়, যার মধ্যে প্রার্থিতা ফেরত পায় ৫১ জন। আর ৪১ জনের প্রার্থিতা নামঞ্জুর হয়। এ ছাড়া গত রোববার প্রথম দিনে ৯৪টি আপিল আবেদন শুনানি করে ইসি ৫৬ জনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয় এবং ৩২ জনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। ফলে তিন দিনের আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন ১৬৮ জন। অন্যদিকে নামঞ্জুর হয়েছে ১০৮ জন প্রার্থীর।

এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০শে নভেম্বর নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা হয় দুই হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেন ৭৩১ জনের এবং বৈধ হয় ১ হাজার ৯৮৫টি মনোনয়নপত্র।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বাদ পড়াদের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ৫৬১টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তীতে ১০ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আপিল শুনানি, যা ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি চাইলে উচ্চ আদালতেও যেতে পারবেন।

ওদিকে তিন দিনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। গতকালের শুনানিতেও অর্ধেকের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রার্থিতা মঞ্জুর হওয়া ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন, ঢাকা-১৮ আসনের বশির উদ্দিন, যশোর-৫ আসনের হুমায়ুন সুলতানা, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের আশা মনি, সুনামগঞ্জ-২ আসনের মিজানুর রহমান, রংপুর-৬ আসনের মো. সিরাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মাসুম ইকবাল, ঝালকাঠি-১ আসনের মনিরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাহাবুদ্দিন আহমেদ। এছাড়া সিলেট-৩ থেকে এহতেশামুল হক, ঢাকা-১৪ থেকে জেড আই রাসেল, লালমনিরহাট-২ থেকে হালিমা খাতুন, খুলনা-৩ থেকে ফাতেমা জামান সাথী, নীলফামারী-১ থেকে ইমরান কবির চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ থেকে আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার, ফরিদপুর-৩ থেকে গোলাম রাব্বানী খান, কুমিল্লা-৫ থেকে জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, ঢাকা-২ থেকে ডা. হাবিবুর রহমান, ঢাকা-১৪ থেকে লুৎফর রহমান, রাজশাহী-৫ থেকে ওবায়দুল রহমান, খুলনা-৫ থেকে শেখ আকরাম হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৫ থেকে সুব্রত পাল, রংপুর-৫ থেকে জাকির হোসেন, গাইবান্ধা-১ থেকে কে এম আমজাদ হোসেন, বরিশাল-৬ থেকে জাকির খান, বগুড়া-৬ থেকে সৈয়দ কবির আহমেদ, ফেনী-২ থেকে এ এস এম আনোয়ারুল করিম, নারায়ণগঞ্জ-২ থেকে শরীফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-২ থেকে নুর হাকিম, লক্ষ্মীপুর-১ থেকে হাবিবুর রহমান পবন এবং নীলফামারী-৩ আসন থেকে হুকুম আলী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

অন্যদিকে গতকালের শুনানিতে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন ৩ জন। আর তৃণমূল বিএনপি’র ৩ প্রার্থীর প্রার্থিতাও ফিরে এসেছে আপিলে। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দুই প্রার্থীর পক্ষে রায় এসেছে ইসি’র এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের ১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ইসি’র এই শুনানিতে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ৪ জন ও বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে ৩ জন, ন্যাপ থেকে ২ জন, জাসদ থেকে ৩ জন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট, গণফোরাম, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও ইসলামী ঐক্যজোট থেকে ১ জন করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন না পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিনা ইসলাম। গতকাল নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র নামঞ্জুর করা হয়। সেলিনা ইসলাম সাবেক সংসদ সদস্য (কুয়েতে মানব পাচার ও অর্থ পাচারের দায়ে দণ্ডিত) মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলের স্ত্রী। এ ছাড়া তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যও। এর আগে দুদকের মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগে সেলিনা হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। আপিল শুনানিতে সেলিনা ইসলামের আইনজীবী বলেন, হলফনামায় মামলার তথ্য লিখতে পারেননি প্রার্থী। এখন সেটা নিয়ে এসেছি। অন্যদিকে শুনানিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, উনার মামলাটা দুদকের। উনি জামিনে আছেন। কিন্তু, এই তথ্য দেননি। উনাদের সময় দেয়া হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশে আলোচিত মামলার আসামি। এরপর কমিশন মামলার অবস্থা জানতে চান। তখন সেলিনা ইসলামের আইনজীবী বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। এই কথা শুনে কমিশন সেলিনা ইসলামের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD