বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন




শ্রমিক অসন্তোষ: উস্কানি অপতথ্য ছড়াচ্ছে কারা-খোঁজা হচ্ছে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:২৭ am
মহাসড়ক মহা সড়ক Factory guard killed Gazipur road accident workers workers block highway ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক ট্রাক চাপায় কারখানা নিরাপত্তাকর্মী মৃত্যু বিক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিক অগ্নিসংযোগ যানবাহন ভাংচুর চলাচল বন্ধ gazipur_rmg gazipur rmg rmg আগুন Wildfire দাবানল wildfire forest fire bushfire wildland fire rural fire unplanned uncontrolled unpredictable fire combustible vegetation দাবানল বনভূমি গ্রামীণ বনাঞ্চল অনিয়ন্ত্রিত আগুন পাহাড়িয়া অঞ্চল উষ্ণ তাপক-শিখা পোড়াতে বন। উঁচু গাছ ক্যানপি আগুন Textiles Textile garment factory garments industry rmg bgmea worker germent পোশাক কারখানা রপ্তানি শিল্প শ্রমিক আরএমজি সেক্টর বিজিএমইএ poshak shilpo পোশাক খাত green factory wb সবুজ কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরি rmg rmg clash
file pic

তৈরি পোশাক কারখানার চলমান আন্দোলনে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে বাইরের অনেকের উস্কানি বা ইন্ধন আছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে গোয়েন্দারা তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য খুঁজছে। তারা বলছেন, নতুন মজুরি নির্ধারণ–শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়। নতুন মজুরি বোর্ডের ব্যাপারে মালিক পক্ষের নেতিবাচক অবস্থান নেই। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সহিংস পরিস্থিতি নিছক স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলে ধারণা তাদের।
শ্রমিকরা কেউ কেউ থাকলেও তাদের পেছনে কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উস্কানির অভিযোগে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদের নেতাকর্মী ও শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ রয়েছেন।

পোশাক কারখানার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন পুলিশের এমন এক কর্মকর্তার ভাষ্য, মজুরি বোর্ড সামনে রেখে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অবরোধ শুরুর দিকে স্বতঃস্ফূর্ত বা স্বাভাবিক ছিল। পরে ধীরে ধীরে এর সঙ্গে অন্যদের ইন্ধন ও উস্কানি যুক্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চায় তারা। সরকারের তরফে বিষয়টি সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে অতীতেও যখন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বড় আন্দোলন হয়েছে তখনও ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসত। এবারও বিষয়টি এসেছে।
দুটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরে বিক্ষোভ, সহিংসতায় ইন্ধন ও উস্কানিদাতা হিসেবে ৫১ জনের নাম আছে। সেখানে ৩০ জন বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা রয়েছে দুজন। বাকিরা বিভিন্ন পোশাক কারখানায় নানা পদে কাজ করেন। ইন্ধন ও উস্কানিদাতাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ছয়জন, সাভারের ১৩ জন এবং অন্যান্য জায়গার ১৭ জন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্য রয়েছে–বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ মাস্ক পরছেন। নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা পরিচয় লুকাতে এটি করছেন বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরেক কর্মকর্তা বলেন, এবার শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে আশুলিয়ায় একটি কারখানার সামনে তিনটি হাতবোমা পাওয়া যায়। অতীতে এমন নজির খুব একটা দেখা যায়নি। আবার অনেক কারখানার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা করা হচ্ছে। ছুটি ঘোষণার আগে বলা হচ্ছে–‘ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।’ শ্রমিকঘন এলাকায় তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমের কিছু পেইজ থেকে ‘মারা গেছেন’–এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে লোক জড়ো করা, সহিংসতায় উস্কানি দেওয়া এবং ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কেউ অর্থের জোগান দিচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন কিছু মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর পাওয়ার দাবি করছেন গোয়েন্দারা। অপতৎপরতা পরিচালনা ও সমন্বয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের গ্রুপের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় দেশের বাইরে থেকেও কারও কারও ইন্ধন আছে।

শ্রম অসন্তোষকে উস্কে দিয়ে অন্য কোনো পক্ষ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না করতে পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD