রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন




হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া ইস্যুতে যা জানালো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪ ৫:০০ pm
MoFA পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন Foerign_minstry_momen পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন Foreign Minister AK Abdul Momen Ministry of Foreign Affairs পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
file pic

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর নিয়োজিত বেসামরিক শক্তির সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক কোনো গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানানো হয়। রোববার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি করতে গত ১৮ জুলাই গঠিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র-ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, নাশকতা ও নাশকতা জড়িত পরবর্তী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার নিশ্চিত করছে যে, তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

আন্দোলনকারী ছাড়াও সাধারণ নাগরিকদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া রয়েছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। সেই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যাতে আইনের সীমানার মধ্যে কাজ চালিয়ে যায় এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বাড়াবাড়ি বা অন্যায়ের সম্ভাবনা এড়াতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের ক্রমাগত প্রচারের পটভূমিতে, সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো করতে চায়।

১) শান্তিপূর্ণ ও ইস্যুভিত্তিক ছাত্র আন্দোলনকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত জোট কর্তৃক সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।

২) যেসব হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সরকার সেগুলোর ব্যাপারে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।

৩) আন্দোলন ঘিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বেসামরিক শক্তির সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক কোনো গুলি চালানোর একটিও ঘটনা ঘটেনি।

৪) উদ্ভূত পরিস্থিতি চলাকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানের সময় হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। নজরদারি, নির্দিষ্ট স্থানে আটকা পড়া আইন প্রয়োগকারী কর্মীদের উদ্ধার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপণের লক্ষ্যে হেলিকপ্টার পরিচালিত হয়েছে।

৫) একটি সাদা অ্যান্টি-পার্সোনেল ক্যারিয়ারের (এপিসি) অসাবধানতাবশত মোতায়েন করার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। যেটি ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহৃত রঙের আবরণের মধ্যে দিয়ে জাতিসংঘের চিহ্নটি দৃশ্যমান ছিল। যদিও এপিসি দ্রুত পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের চিহ্ন ব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী পরিবহনের অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো প্রমাণের ভিত্তি নেই।

৬) ইতোমধ্যে ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্থিরতা ও সহিংসতার পুরো সময়ে ভূমি-ভিত্তিক ও মোবাইল টেলিযোগাযোগসহ যোগাযোগের অন্য ক্ষেত্রগুলো কার্যকর ছিল।

৭) কারফিউ চলাকালে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোর কাজে মিডিয়া কর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য অনুমতিসহ জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারকে সমুন্নত রেখেছে সরকার।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD