শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন




দেশে মাতৃমৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই হয় সরকারি হাসপাতালে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫ ৮:৫৮ pm
Chattogram Medical College Hospital CMC CMCH চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চমেক মেডিকেল
file pic

দেশে মাতৃমৃত্যুর অর্ধেকই হয় সরকারি হাসপাতালে। আইসিডিডিআরবির সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না থাকায় হচ্ছে এসব মৃত্যু। অভিযোগ কোথাও নেই অ্যাম্বুলেন্স, আবার কোথাও সংকট পর্যাপ্ত ওষুধ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার।

৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তৃপ্তি রানী হঠাৎই তলপেটে তীব্র ব্যাথা অনুভব করেন। জরুরি চিকিৎসা নিতে যান গাজীপুর সদর হাসপাতালে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে আসেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। তৃপ্তি বিপদমুক্ত হলেও বাঁচানো যায়নি তার গর্ভের সন্তানকে।

তৃপ্তি রানী বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমার পেটে ব্যাথা ছিল। তারপর হাসপাতালে গিয়েছিলাম কেন পেটে ব্যাথা হচ্ছে।

তৃপ্তির মতোই গর্ভকালীন ঝুঁকির গল্প কেরাণীগঞ্জের রুনারও।

রুনা বলেন, রক্ত পরীক্ষা করে আমি বাসায় গিয়েছিলাম। রান্না-বান্না করে খেয়ে দেয়ে ঘুমাই। ঘুম থেকে উঠেই তলপেটে ও কোমরে ব্যাথা অনুভব করি। এর সঙ্গে হালকা পানি ভেঙে যায়।

স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালে বহু হবু মা’র জীবন পড়ে সংকটে। অনেকেই বেঁচে ফেরেন না। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও এমন ঘটনা বেদনার-হতাশার। আইসিডিডিআরবির সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মাতৃমৃত্যুর ৪৮ ভাগই হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে। বাড়িতে ১৯ শতাংশ আর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন আরও ১৯ শতাংশ মা। বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায় ১৩ শতাংশ।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারজানা সোহেল বলেন, প্রাইমারি লেভেলে রোগীর যে একটা ইমার্জেন্সি ম্যানজেমেন্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন, এখানে অনেক কিছুর ঘাটতি আছে। যেমন- ট্রান্সফিউশন সুবিধা নেই, এডিকট ম্যানপাওয়ার নাই, ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দেয়ার সুবিধা নেই।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে- বিডিএইচএস সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশের উপজেলা হাসপাতালে পূর্নাঙ্গ রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা আছে এক তৃতীয়াংশ উপজেলা হাসপাতালে, থাকে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়ার ব্যবস্থা আছে মাত্র ৩৫ শতাংশ হাসপাতালের।

মেরীস্টোপস ক্লিনিকের লিড অ্যাডভোকেসি মনজুন নাহার বলেন, গর্ভকালীন সময়ের যে কেয়ার, সেটা একেবারে এনসিওর করতে হবে। তার জন্য আমার সে সুবিধা প্রস্তুত রাখতে হবে। আমার সার্ভিস প্রোভাইডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আমরা মিডওয়াইফদের আরও নিয়োগ দিতে পারি। তারাও এ কাজে ব্যবহার হতে পারে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে চুক্তি হতে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD