রোজা এক ধরনের প্রাকৃতিক মেটাবলিক বিশ্রাম হিসাবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানের রোজা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, রক্তে চর্বির মাত্রা (লিপিড প্রোফাইল) উন্নত করা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। এ মাসে খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময়সূচি ও দৈনন্দিন রুটিনে হঠাৎ পরিবর্তন শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই রমজানের অন্তত ১-২ মাস আগে ধীরে ধীরে খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শুরু করা উচিত। এতে শরীর রোজার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
* কেন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রমজান আলাদা
ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে রক্তে শর্করার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত থাকে। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকা, খাবারের সময় ও ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন, ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ অপরিবর্তিত রাখা-এসব কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে-
► হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়া)।
► হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া)।
► ডিহাইড্রেশন।
► কিটোঅ্যাসিডোসিস এবং
► কিডনি বা হৃদযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ ঝুঁকিগুলো সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
রজব মাস থেকে প্রস্তুতির চিকিৎসা-
* রক্তে শর্করা (HbA1c) নিয়ন্ত্রণ
HbA1c গত ২-৩ মাসের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের চিত্র দেয়। রজব মাসে চিকিৎসা শুরু করলে রোজার আগেই HbA1c উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব, যা এ সময় জটিলতা কমায়।
* লিপিড প্রোফাইল (চর্বি)
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে উচ্চ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড সাধারণ সমস্যা। আগেভাগে খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ও জীবনযাপন সংশোধন করলে রমজানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
অনেক ডায়াবেটিস রোগী উচ্চরক্তচাপে ভোগেন। রজব-শাবান সময়ে রক্তচাপ স্থিতিশীল করা গেলে রোজার সময় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
* লিভার ও কিডনি ফাংশন
ডায়াবেটিসে ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিক কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকে। আগেভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সমন্বয় করলে রোজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
* ওষুধ ও ইনসুলিন সমন্বয়
রোজার উপযোগী করে ওষুধের ধরন, ডোজ ও সময় ঠিক করতে সময় লাগে। রজব থেকে শুরু করলে ধাপে ধাপে নিরাপদভাবে সমন্বয় করা যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজান শুধু ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি একটি চিকিৎসাগত চ্যালেঞ্জও। আগাম প্রস্তুতিই পারে রমজানকে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ঝুঁকির পরিবর্তে রহমতে পরিণত করতে।
লেখক : আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।