শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন




খেজুর ও ব্রয়লার মুরগির দাম চড়া

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১:১২ pm
roosters hen rooster মোরগ প্রাণিসম্পদ poultry livestock Birds Bird domesticated junglefowl species wild species Rooster cock cockerel broiler chicken bred raised specifically meat broilers slaughter breeds broilers animal eggs chickens harvested egg food fowl especially chickens ডিম হালি ব্রয়লার মুরগি বাজার খুচরা পাইকারি বাচ্চা ফিড ব্যবসায়ী খামারি ডজন ফার্ম মুরগি সাদা ডিম হাঁস ডিম সোনালি মুরগি দেশি মুরগি পোল্ট্রি খামার ডিম-মুরগি
file pic

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর, প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগি ও কয়েকটি সবজির দাম কয়েক দফা বেড়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা যায়।

ভোক্তা-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন সরকারের প্রথম দিনই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও ব্যবসায়ীরা তোয়াক্কা করছেন না। শুল্কছাড়ের সুবিধা নিয়ে খেজুর আমদানি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। আবার বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো রমজান সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে মুরগির বাজারে। অতি দ্রুত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার না করলে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। এ অবস্থায় রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন।

রমজানে প্রতিদিনের ইফতারের অনুষঙ্গ খেজুর। এর বাজার বেশ চড়া হয়ে উঠছে। খেজুরের আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা– এ তিন পর্যায়ের মূল্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমদানি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ দামে ভোক্তাকে খেজুর কিনতে হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিসহ মোট শুল্ক প্রায় ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যমতে, মেডজুল, আজওয়া ও আম্বার জাতের প্রতি কেজি খেজুরের আমদানি খরচ (শুল্কসহ) ৬৪৩ থেকে ৬৫০ টাকা, মরিয়ম খেজুরের আমদানি খরচ প্রায় ৬০০ টাকা, মোটামুটি সাধারণ মানের খেজুরের আমদানি খরচ কেজিতে ৪০০ টাকার কিছু বেশি পড়েছে। কিন্তু বাজারে এসব খেজুর আমদানির চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাদামতলীতে পাইকারিতে মেডজুল খেজুরের কেজি দেড় হাজার এবং বিভিন্ন খুচরা বাজারে তা এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একইভাবে আজওয়া পাইকারিতে ৭০০ টাকা হলেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে কমবেশি ৯৫০ টাকায়, মরিয়ম পাইকারিতে কমবেশি ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরায় কিনতে খরচ হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। সাধারণ খেজুরের আমদানি খরচ কম হলেও বাজারে তা তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী আলি ইব্রাহীম বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকে হঠাৎ করে বাদামতলী বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভালো মানের খেজুরের কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বাজারে তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। তরমুজ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, মাসখানেক আগেই তরমুজ বাজারে এসেছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে। বরিশালের তরমুজ বাজারে আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে।

ব্রয়লারের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি
গরুর মাংসের পরিবর্তে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভরসা ব্রয়লার মুরগি। গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। তিন দিন আগে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি গতকাল ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লারের কেজি ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা গেছে ২৭০ থেকে ২৯০ টাকায়।
গত সপ্তাহের তুলনায় ছোলার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

বেগুন দেড়শ ছুঁয়েছে
এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দর হয়েছে দ্বিগুণ। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। তবে কিছুটা নিম্নমানের বেগুন কেনা যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। লেবুর দাম এখনও আকাশচুম্বী। মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু কিনতে খরচ হবে ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

দাম নিয়ন্ত্রণসহ ১৫ দাবি
জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ভেজালমুক্ত, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বিসেফ ফাউন্ডেশন ও শিসউক।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ক্যাবের প্রেসিডেন্ট এএইচএম সফিকুজ্জামান, শিসউকের নির্বাহী পরিচালক শাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আতাউর রহমান মিটন।

বক্তারা বলেন, নতুন সরকারের জন্য এ রমজান হবে ‘এসিড টেস্ট’। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে না।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD