শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন




পোস্টিং পেতে জোর তদবির

পোস্টিং পেতে জোর তদবির: জনপ্রশাসনে ১৩ সচিবের পদ শূন্য

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৫ am
Public Administration secretary District Commissioner convention meeting জেলা প্রশাসক ডিসি সম্মেলন Bangladesh Government gov govt বাংলাদেশ সরকার ঢাকা Dhaka সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি প্রশাসন সচিবালয় ‎মন্ত্রণালয় প্রশাসন Bangladesh Government gov govt
file pic

প্রশাসনে বর্তমানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৩ কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। শিগগিরই এ পদগুলো পূরণ করা হবে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসহ সচিবের শূন্যপদগুলোতে নিয়োগ পেতে নানামুখী তদবরি অব্যাহত আছে। সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি সরকার এ ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও পেশাদারত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নবাগত বিএনপি সরকার মুখে যতই মেধা, যোগ্যতা ও পেশাদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলুক না কেন বাস্তবে এর প্রতিফলন থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একথা ঠিক যে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে পেশাদারত্বের পাশাপাশি সরকার আস্থাভাজন আমলাও তালাশ করবে। এজন্য হয়তো কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখনো দিতে হবে। কিন্তু কোনো কারণে প্রশাসন দলীয়করণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে সেটি সবার জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে।

শূন্যপদে সচিব নিয়োগে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক কোনো মন্তব্য করেননি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, যদি সরকারের পাশে দক্ষ আমলাতন্ত্র না থাকে তা হলে সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে না। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি বাড়তে পারে। এর ফলে সরকার বিতর্কিত হয়ে পড়বে। এজন্য সরকারকে অনেকটা চিন্তা-ভাবনা করে মুন্সিয়ানার সঙ্গে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার স্বল্প মেয়াদে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কিছু কর্মকর্তাকে সচিব হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে। তাহলে সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কাউকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদও খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নেই। পদগুলো শূন্য। অপরদিকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। খালি আছে মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) সিনিয়র সচিবের পদ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে নিয়োগ পেতে পর্দার আড়ালে তদবিরের এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। তবে এক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট সরকারের টানা ১৭ বছরে যেসব পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা বিএনপি সরকারের কাছে সৎ, যোগ্য, মেধাবী, পেশাদার ও আস্থাভাজন হিসাবে বিবেচিত, তাদের নিয়োগ সহসা হতে পারে। ইতোমধ্যে এ তালিকা থেকে ১৯৮৬ ব্যাচের একজনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে ১৯৮৪ ব্যাচ থেকেও শিগগির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য অধিকাংশ অতিরিক্ত সচিব কোনো না কোনোভাবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তল্পিবাহক ছিলেন। আবার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী আমলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন তাদের নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কাজ করার তেমন কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। এ অজুহাতে কেউ কেউ তাদের আরও পরে পদোন্নতি দিতে চান। কিন্তু এটিও সঠিক পন্থা নয়। বিশেষ করে এ তালিকায় যারা পেশাদার তাদের সচিব পদে পদোন্নতি বিলম্বিত করা সমীচীন হবে না।

এদিকে প্রশাসনের বেশির ভাগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার শুধু যদি সৎ, যোগ্য, মেধাবী ও পেশাদারত্বকে একমাত্র মানদণ্ড নির্ধারণ করে তাহলে প্রশাসনে দ্রুত গতিশীলতা ফিরে আসবে। এর বাইরে আর কোনো থিউরি কাজে আসবে না।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD