বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন




বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব ইআরএফের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ৫:৩৪ pm
Economic Reporters' Forum ERF ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ইআরএফ erf ইআরএফ
file pic

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। একইসঙ্গে ভ্যাটের একক হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তি করের সর্বোচ্চ হার ৩০-৩৫ শতাংশে সীমিত রাখা এবং ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ও মুনাফার কর হ্রাস বা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফ দেশের রাজস্ব পরিস্থিতি, অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী কাজ করে আসছে। জাতীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ২৬০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই সংগঠন অর্থনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জনসাধারণকে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে কাজ করছে।

ইআরএফ মনে করে, রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এনবিআর ও ইআরএফের যৌথ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে অতিরিক্ত কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। যাদের করযোগ্য আয় নেই, তাদের ব্যাংক সুদের ওপর উৎসে কর্তিত কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর করহার সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশে সীমিত রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে পৃথক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইআরএফ। একইসঙ্গে বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড করমুক্ত রাখা এবং বাজারমূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদ কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গণমাধ্যম শিল্পের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ওপর করহার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি এনবিআরের তিনটি বিভাগ—কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়করের জন্য পৃথক হেল্পলাইন চালু এবং বিনিয়োগকারী ও করদাতাদের সহায়তায় প্রতিটি বিভাগে ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, করদাতা সেবার মান উন্নয়নে জেলা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক মিডিয়াম ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট (এমটিইউ) গঠন করা যেতে পারে। একইসঙ্গে কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে রাজস্ব ক্ষতির প্রাক্কলন প্রকাশের সুপারিশ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আমদানি শুল্ক কাঠামো ধীরে ধীরে কমানোর পাশাপাশি অনিবাসীদের সেবার ওপর উৎসে করহার পুনর্বিবেচনারও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

ইআরএফ আরও সুপারিশ করেছে, করযোগ্য জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জাতীয় জরিপ পরিচালনা এবং উপজেলা পর্যায়ে কর প্রশাসনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা। একইসঙ্গে গাড়ি ও বাড়ির মালিকদের আর্থিক লেনদেন নজরদারিতে ব্যাংক, ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও বিভিন্ন ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রিয়েলটাইম তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।

অবৈধ সিগারেট উৎপাদন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং ইউনিটের কার্যকারিতা জোরদার করে অর্থ পাচার রোধের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে ইআরএফ।

এ ছাড়া এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগ আধুনিকায়ন, কর প্রশাসনে ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস চালু, কর-ভ্যাট-কাস্টমস কার্যক্রম সহজ করতে টিআইএন ও বিআইএন একীভূত করে ইউনিক আইডি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সভায় ইআরএফ নেতারা জানান, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধিতে এনবিআরের চলমান উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে এবং বছর শেষে তা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD