আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশে কুরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর সম্ভাব্য চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে কুরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
রোববার (১০ মে) এমন সুখবর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এদিন দুপুরে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। কুরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কুরবানির পশুর অবাধ বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহণ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এ বছর কুরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এবার কুরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৩ হাজার ৬শ’টিরও বেশি পশুর হাট বসবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব হাটে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। কুরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হাট এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তবর্তী পশুরহাট বন্ধের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে সীমান্তঘেঁষা কিছু হাটের মাধ্যমে বিদেশি পশু প্রবেশ করায় দেশীয় খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি বন্ধে বর্ডার এলাকায় হাট না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে পশু বিক্রি হবে এবারও। এজন্য কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না। এছাড়া কুরবানির দেওয়া পশুর চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জন্য পেশাদার ও অপেশাদার কসাই এবং কর্মীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেন চামড়া নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জানা যায়, পশুবাহী পরিবহণসহ বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (হট লাইন-১৬৩৫৮) চালু থাকবে। যে কোনো সমস্যা সমাধানে ফোন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়ক বা যেখানে হাট বসালে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনসহ উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একযোগে কাজ করবে। সড়কে বা সেতুতে কুরবানির পশুবাহী গাড়িকে প্রাধান্য দেওয়াসহ যাতে রাস্তায় পশু আটকে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি না করা হয় সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম চিকিৎসা দেবে ও মনিটরিং করবে।
সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার উদ্যোগে প্রতিটি হাটে উপযুক্ত ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের ক্যাম্প স্থাপন করাসহ দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট থাকবে। ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সেবা কর্মীদের জন্য অ্যাপ্রোন, মাস্ক, চেয়ার, টেবিল, বালতি ও মগ ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে।
(যুগান্তর)