‘একের মাল। চামড়াগুলা খুইলা দেখেন। বড় বড় গরুর ফ্রেশ চামড়া। কিনার পর চারজন মিইল্লা ধইরা ভ্যানগাড়িতে তুলছি। ভালা দাম না পাইলে ছাড়ুম না।’
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১টার দিকে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের অদূরে মৌসুমি এক চামড়া বিক্রেতা আগত দুই তরুণের কাছে এভাবেই কোরবানির গরুর চামড়ার বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
দুই তরুণ প্রতিটি চামড়ার দাম ৬০০ টাকা বললে হতাশ ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকিয়ে না বলে দেন তিনি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মঈন আলী নামের ওই বিক্রেতা জানান, প্রতিটি চামড়া তিনি ৭০০ টাকা করে কিনেছেন। এক হাজার টাকার কমে বিক্রি করবেন না।
এদিন দুপুরেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও আশপাশের এলাকায় চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক রিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে করে চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। এছাড়া কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী (ফড়িয়া) পাড়া-মহল্লা থেকে ৫ থেকে ১০ পিস করে চামড়া কিনে লাভের আশায় বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসেন। কিন্তু দামে বনিবনা না হওয়ায় দুপুর পর্যন্ত বিক্রি তেমন জমেনি।
বিক্রেতারা বলছেন, তারা বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তারপর লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা করবেন।
সায়েন্স ল্যাবরেটরির সামনে দুই চামড়া বিক্রেতাকে দাঁড়িয়ে বনরুটি খেতে দেখা যায়। তারা ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২২টি চামড়া কিনে এনেছেন। আলাপকালে তারা জানান, বড় গরুর চামড়া প্রতিটি এক হাজার ১০০ টাকা এবং ছোট গরুর চামড়া প্রতিটি ৮০০ টাকা দাম চাইছেন।
কিন্তু চামড়ার ক্রেতারা ছোট গরুর চামড়ার চেয়েও বড়টার দাম কম বলছেন। শাহ আলম নামের এক বিক্রেতা জানান, গড়ে এক হাজার ১০০ টাকা না পেলে তারা চামড়া বিক্রি করবেন না।