বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন




যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়ালো বাংলাদেশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১১ pm
labour Textiles Textile garment factory garments industry rmg bgmea worker germent পোশাক কারখানা রপ্তানি শিল্প শ্রমিক আরএমজি সেক্টর বিজিএমইএ poshak shilpo
file pic

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ অবস্থানে থাকা চীন সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধাক্কা খেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীন।

অটেক্সার তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রফতানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির রফতানি ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। অপরদিকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রফতানি ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে।

তবে সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য সময়ে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।

অটেক্সার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে চীনের বড় ধরনের পতনের কারণে নতুন করে প্রতিযোগিতার মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। তবে সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ও কমেছে— যা নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে আধিপত্য ধরে রাখা চীন এখন নেমে গেছে তৃতীয় অবস্থানে।

পরিসংখ্যান বলছে, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রফতানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। দেশটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পোশাক রফতানি ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ববাজারে চাহিদা কমার প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানির সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়াও বাংলাদেশের রফতানিতে প্রভাব ফেলেছে। অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজার থেকে মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রফতানি কমার পেছনে শুধু অর্ডার কমে যাওয়াই নয়, ইউনিট মূল্য কমে যাওয়া এবং রফতানি পরিমাণ কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে, যা প্রায় ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আর রফতানির পরিমাণ কমেছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ।

প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হলেও প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।

এই সময়ে ভিয়েতনামের রফতানি যেমন বেড়েছে, তেমনই কম্বোডিয়ার রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একই সময়ে কম্বোডিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীনের পতন: সুযোগ নাকি সাময়িক পরিবর্তন

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও পাল্টা শুল্কের কারণে চীনের পোশাক রফতানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। তবে এটি স্থায়ী পরিবর্তন নাকি সাময়িক— তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের রফতানি কমে যাওয়ায় নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিও চাপের মধ্যে রয়েছে।’’

তার মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য, উৎপাদন দক্ষতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হলেও সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, ইউনিট মূল্য কমে যাওয়া, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন।

তবে একইসঙ্গে চীনের বাজার অংশীদারত্ব কমে যাওয়াকে অনেকেই বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সঠিক কৌশল গ্রহণ করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলা ট্রিবিউন




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD