বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন




স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ৯:৫৯ am
Tarique Rahman Tarique Rahman তারেক রহমান Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি tarek-rahman
file pic

জাতি গঠন ও দেশকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংকট, হলে আবাসন সমস্যা, লাইব্রেরিতে আসন সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকজন প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন। অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, মানুষ দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। কিন্তু সবকিছুই স্থিতিশীল পরিবেশে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হয়। এজন্য স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার এবং আমি মনে করি এক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থী বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে এ বিষয়ে ধীরে ধীরে জনমত গড়ে তুলতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করবে-এটি স্বাভাবিক। তবে, রাজনীতির মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত সংসদ। আমরা রাজপথের রাজনীতিতে অনেক কিছু করেছি। কিন্তু এখন স্থিতিশীলতা আনতে হবে। সংসদে রাজনীতিকে নিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজপথে হইচই করে কিছু গড়ে তোলা যাবে না। দেশ গঠনে আলোচনা, সংলাপ এবং চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কিছু গড়ে তুলতে হলে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আলোচনা প্রয়োজন। চিন্তা করে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যৎ আপনাদের। এসব বিষয়ে আপনাদের শক্ত হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন। কর্মশালা শেষে বেলা পৌনে ১২টায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো-একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে তিনি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বেলা ১১টায় ঢাবির নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশনসহ বিভিন্ন উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে যেমন আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে তেমনি মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান শাসন করছে। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। আবার নিত্যনতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করছে। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।

শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত- একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।

শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন অথবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এজন্য অনেকে বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসি সদস্যদের সহযোগিতা কামনা : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, ব্রুনেই, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, ওমান, পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইরান, ইরাক ও লিবিয়ার মিশনপ্রধানরাও অংশ নেন।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD