ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে আগামী রোববার দেশের স্কুল-কলেজে আবারও শুরু হচ্ছে পাঠদান। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়েছিল গত ২৪ মে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শেষ হলেও শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি পেয়েছে। কলেজ পর্যায়েও ঈদের ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে ১৬ দিনের অবকাশ পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে মাদ্রাসাগুলোতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদের ছুটি ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।
দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। রাজধানীর একাধিক স্কুল ও কলেজের প্রধানরা জানান, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ সহনীয় রাখতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) রওশন জাহান বলেন, ‘গরমের মধ্যে অবস্থা বুঝে আমরা ব্যবস্থা নেব। যা যা করা দরকার, সবই করব। আমাদের প্রতিষ্ঠানে মতিঝিল মূল ক্যাম্পাসে এসএসসির কেন্দ্র ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নেওয়া যায়নি। তবে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় নিয়মিত ক্লাস চলেছে। আগামী ২৮ জুন ষাণ্মাসিক পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা চেয়েছিলাম রোববার থেকে প্রতিদিন ২-৩টা করে নিয়ে সব বিষয়ের সিটি পরীক্ষা শেষ করে ফেলতে। সিটি না নিলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসে না, গুরুত্ব দেয় না। এখন গরমের কারণে কতদিন কী করতে পারব, বুঝতে পারছি না।’
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাজেদা বেগম বলেন, ‘গরমের সময়ে আমরা মেয়েদের দিকে বাড়তি নজর রাখব, যেন কেউ অসুস্থ না হয়।’ মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শায়লা নাসরীন বলেন, ‘রোববার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার আগেই সব শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক পাখা পরীক্ষা করা হবে। কোনো পাখা অচল থাকলে তা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দনিয়া এলাকার একটি বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত জার রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি পানি পান করার জন্য উৎসাহিত করা হবে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শ্রেণি কার্যক্রমে সাময়িক সমন্বয় আনা হতে পারে। প্রয়োজনে ক্লাসের সময়সীমা কমিয়ে আনা কিংবা মধ্যাহ্নের আগে পাঠদান শেষ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
শিক্ষকরা গরমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পোশাক-সংক্রান্ত কিছু শিথিলতার কথা জানিয়েছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে ইউনিফর্ম পরিধানে কিছুটা নমনীয়তা দেখানো হবে। বিশেষ করে নির্ধারিত জুতা পরে আসার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হবে না। সমকাল