চিঠি-নোটিশেও সাড়া নেই, আদায় হচ্ছে না পাওনা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামাল মাস্টার্স করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান ২০১৫ সালে। এক দশক পেরোলেও ফেরেননি তিনি। তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক জিসান আহমেদ ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর ফেরেননি। তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩৭ লাখ টাকা। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন শিক্ষকের সংখ্যা কয়েকশ। উচ্চশিক্ষার নামে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বিদেশে থিতু হচ্ছেন তারা। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে বন্ডে সই করতে হয়-ছুটি শেষে অবশ্যই কর্মস্থলে ফিরবেন। এই শর্তেই তারা নেন ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ও বোনাস। কিন্তু বাস্তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে ফিরছেন না তারা। বারবার চিঠি দিয়েও মিলছে না সাড়া। এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাওনা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ তা আদায়ে চরম উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার পাওনার সঠিক হিসাবও নেই।
এদিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষার বাহানায় বিদেশে চলে গেছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে প্রবাসে থাকার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছেন। পাশাপাশি আগে থেকেই আওয়ামীপন্থি যেসব শিক্ষক প্রবাসে ছিলেন তারাও দেশে ফিরছেন না। এর বাইরে শিক্ষকদের আরেকটি অংশ নিয়োগের পর স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ঢাবি, জাবি, রাবিসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত সহস্রাধিক শিক্ষক বর্তমানে বিদেশে। পিএইচডি, পোস্টডক্টরাল গবেষণা, ফেলোশিপ ও অন্যান্য একাডেমিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ও গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শর্ত ভঙ্গ করে বিদেশে অবস্থান করা অনেক শিক্ষককে ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হলেও বিদেশে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমছে না।
ঢাবির তিন শতাধিক শিক্ষক বিদেশে : ঢাবি প্রতিনিধি সাদ আদনান রনি জানান, ২০২২ সালের তথ্যমতে, বিশ্বের ১৬টি দেশের ১৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩২২ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের অনেকে দেশে ফিরলেও নতুন করে আরও অনেকে বিদেশে গেছেন। তবে বর্তমানে ঢাবির কতজন শিক্ষক দেশের বাইরে আছেন তার সঠিক তথ্য জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবেদনের পরও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে নীরব প্রশাসন। এদিকে ঢাবিতে ২ হাজারের বেশি শিক্ষক আছেন। স্বৈরাচারী শাসনের পক্ষে অবস্থানসহ নানা কারণে বিভিন্ন বিভাগের ৩৬ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
শিক্ষাছুটি শেষে উধাও জবির ২৮ শিক্ষক : জবি প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩২ জন শিক্ষক বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে যোগ দেননি ২৮ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও তারা সাড়া দিচ্ছেন না। এদিকে বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যাপারে অর্থ ও হিসাব দপ্তর এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে।
১৫ বছরেও দেশে ফেরেননি জাবির ২৪ শিক্ষক : জাবি প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শতাধিক শিক্ষক। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফেরেননি ২৪ শিক্ষক। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি বকেয়া দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। তার কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা। তিনি ২০১৫ সালে মাস্টার্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২২ সালের জুনে তিনি দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এছাড়া হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্তের কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। একই বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক একেএম ফজলুর রহমানের কাছে পাওনা ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা।
চুয়েটে চাকরিচ্যুত ৪৪ শিক্ষক : চুয়েট প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ গালিব জানান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৮১ শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও ৬৮ জন দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিদেশে অবস্থানরত এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাওনা ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭৭ টাকা। এদিকে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় ৪৪ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি ৫ জনের নামে মামলা চলমান।
নোবিপ্রবিতে প্রতি ৩ শিক্ষকের একজন ছুটিতে : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মো. নিয়াজ উদ্দিন জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৪২১ শিক্ষকের মধ্যে ১২২ জনই শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে পিএইচডি করতে গিয়ে দেশে ফিরে না এসে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন অন্তত ১৫ শিক্ষক। আবার নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ জন শিক্ষক এখনো যোগ দেননি। তাদের মধ্যে একজনের বেতন বন্ধ থাকলেও বাকি ৭ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাওনা ২ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ টাকা। এই শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ফিমস বিভাগের ড. আহসান হাবিব, কৃষি বিভাগের আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফার্মেসি বিভাগের হাসানুজ্জামান, এসিসিই বিভাগের শহিদুল ইসলাম, বিজিই বিভাগের খাদিজাতুল কুবরা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জিনাত হোসেন ও মাইক্রোবায়োলজির মেহেদী হাসান চৌধুরী। তবে ২১ জন বেতন-ভাতা ছাড়া ছুটিতে রয়েছেন।
হাবিপ্রবির চাকরিচ্যুত ১৪ শিক্ষক : হাবিপ্রবি প্রতিনিধি গোলাম ফাহিমুল্লাহ জানান, শিক্ষা ছুটি শেষেও ক্যাম্পাসে ফেরেননি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৮ শিক্ষক। এদের মধ্যে ১৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪ শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যথাযথ জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাছুটি নিয়ে ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক : খুবি প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম জানান, শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও কর্মস্থলে ফেরেননি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৯ শিক্ষক। ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যোগদান না করায় ১৪ জনের নামে মামলা চলছে। সাত-আটজন চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাদের কাছে পাওনা অর্থ ফেরতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
কুবির এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক ছুটিতে : কুবি প্রতিনিধি সাঈদ হাসান জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মোট ২৮৬ শিক্ষকের মধ্যে ৯১ জন বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে রয়েছেন। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে আছেন ৮৮ জন। শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমএম শরিফুল করিম বলেন, যারা টাকা ফেরত দেননি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে গিয়ে লাপাত্তা পাবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক : পাবিপ্রবি প্রতিনিধি আলফি সানি জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে কর্মস্থলে ফেরেননি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ১৭ জন শিক্ষক। এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বর্তমানে পাবিপ্রবিতে মোট শিক্ষক ২১৩ জন। এদের মধ্যে ৫৫ জন বিদেশে শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন।
ফেরেননি ইবির ১৫ শিক্ষক : ইবি প্রতিনিধি আবির হোসেন জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষাছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরেননি অন্তত ১৫ শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিঠি দিলেও তারা যোগদান করেননি। এর মধ্যে তিন শিক্ষকের কাছেই পাওনা প্রায় ৯০ লাখ টাকা। বাকিদের পাওনার চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে নির্ধারিত সময়ে না ফেরায় কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ববিতে ২১৫ শিক্ষকের ৫১ জনই বিদেশে : বরিশাল থেকে অনিকেত মাসুদ জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ৬ শিক্ষক। তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৭০ লাখ টাকা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫১ জনই বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কাজে অবস্থান করছেন।
৫ বছরে রাবির ৬০ শিক্ষক চাকরিচ্যুত : রাবি প্রতিনিধি ইরফান তামিম জানান, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফিরছেন না অনেক শিক্ষক। এ কারণে ৫ বছরে প্রায় ৬০ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
চবিতে ছুটিতে ১২৮ শিক্ষক : চবি প্রতিনিধি রেফায়েত উল্যাহ রুপক জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে রয়েছেন ১২৮ শিক্ষক। তাদের মধ্যে ১৮ জনের ছুটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না। আগামী মাসে আরও ৪৪ জন শিক্ষকের ছুটির মেয়াদ শেষ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইসকান্দর সিরাজ বলেন, বর্তমানে নিয়মের বাইরে কেউ ছুটিতে নেই।
গোবিপ্রবির ১৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির জানান, নির্ধারিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ১৬ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস, পরিসংখ্যানের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেব্রত পাল ও আইনের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান।
যবিপ্রবির শতাধিক শিক্ষক বিদেশে : যবিপ্রবি প্রতিনিধি তানভীর খন্দকার জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০১ শিক্ষক বিদেশে আছেন। এদের মধ্যে ২০ জন বেআইনিভাবে ছুটি কাটাচ্ছেন। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তারা কর্মস্থলে ফিরছেন না।
বাকৃবিতে বকেয়া ৪ কোটি টাকা : বাকৃবি প্রতিনিধি মো. শাহীন সরদার জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন বিভাগের ১২০ জন শিক্ষক বর্তমানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে আছেন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত ছুটি শেষ হলেও ১২ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি। তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় ৪ কোটি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮০১ টাকা।
ফেরেননি পবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক : দুমকি প্রতিনিধি নাঈম হোসেন জানান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেননি ১৭ জন শিক্ষক। এদের মধ্যে ৮ শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৯ জন স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
(যুগান্তর)