সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন




শিক্ষার্থী নির্যাতন, প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার নিন্দা ডাকসুর

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:১৩ pm
Dhaka University TSC Teacher Student Centre tsc dhaka university public space public place Roads pavement public squares parks beaches square park beache Road পাবলিক প্লেস পাবলিক প্লেস পাবলিক পরিবহন ধূমপানমুক্ত ঢাবি du ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিইউ Dhaka University tsc শিক্ষক ছাত্র কেন্দ্র টিএসসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু Dhaka University Central Students' Union DUCSU ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু DU
file pic

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিচার দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। ডাকসুর এক বিবৃতিতে এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, হলের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা করায় শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত এবং প্রশাসনের ‘জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ করেছে ডাকসু।

বিবৃতিতে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানানো হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখারও দাবি করেছে ডাকসু।

ডাকসু জানায়, শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে তার কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কোনো কার্যকর সমাধান না করে গভীর রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদলের হামলায় ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হামলার মাধ্যমে একজন অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে নেওয়া ‘গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির চর্চা নয়’ বলেও মন্তব্য করেছে ডাকসু।

হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ডাকসু। একই সঙ্গে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা ও দায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে এর আগে শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী, ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ এবং কুদরত-ই-খোদা হোস্টেলে গেস্টরুম ও র‌্যাগিংয়ের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এসব ঘটনায় তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে ডাকসু।

ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সময়ের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রকাশ, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব সাংগঠনিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ডাকসু।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD