মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন




নারীদের জন্য চালু হলো বাস সার্ভিস, চলবে ১৪ রুটে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩৫ pm
holidays holiday পরিবহন transport strike TRANSPORT STRIKE bus halt বাস ধর্মঘট Bangladesh Road Transport Corporation brtc বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন করপোরেশন বিআরটিসি
file pic

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সেবার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন রুটে বাস চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীরা যেন এই বাসে চড়তে ও যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাস চালু করলেই হবে না, পুরো সেবাটিকে সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করতে হবে।

নারীদের জন্য চালু করা এই বিশেষ বাসসেবা উদ্বোধনের সময় শেখ রবিউল আলম বলেন, নতুন এই উদ্যোগ যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে কোনো কোনো সেবা উদ্বোধনের ছয় মাস পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার এমনটি হতে দেবে না।

বিআরটিসি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মঙ্গলবার যে সেবা শুরু হলো, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল হয়তো নতুন ব্যবস্থার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে।

নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সরকার করবে এবং মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগকে টেকসই রাখা, আরও সমৃদ্ধ করা এবং বিস্তৃত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের জন্য বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা এবং বাস থেকে নামা পর্যন্ত পুরো যাত্রাটিই নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। অপেক্ষার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের অবদান রয়েছে। ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতিতেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করতে হলে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব ও নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এর অংশ হিসেবে মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।

আগামী দিনে এই সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রুটের সংখ্যা ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করা হবে।

বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। সংস্থাটি বর্তমানে লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে।

তবে মানসম্মত সেবা ও অপারেশনে সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনাকে সময়ের সঙ্গে ঢেলে সাজিয়ে যুগোপযোগী ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে।

ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, অনেক রুটের অস্তিত্ব নেই, কিন্তু সেসব রুটের পারমিট রয়েছে। আবার অনেক রুটে পারমিট নেই, তারপরও বাস চলছে। অনেক আগে এসব রুট নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন যাত্রীদের চাপ ও প্রয়োজন বিবেচনা করে রুট ও রুট পারমিট নতুন করে নির্ধারণ এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সরাসরি কেনার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ই-বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, দরপত্র ও আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-বাসকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।

তিনি জানান, ২০০টি ই-বাসের মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে রাখা হচ্ছে। এর ফলে নারী বাসসেবার রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে যেসব এলাকায় এই সেবা চালু হয়েছে, তার বাইরে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

নারীবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD