নেপালের বন্যাকবলিত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও কোনো শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রসুয়া জেলার ১১১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে অন্তত ৯৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভোতে কোশি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার পর শ্রমিকেরা টানেলের শেষ প্রান্তে আটকা পড়ে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নেপালি সেনাবাহিনী, প্রকৌশলী ও ড্রোন বিশেষজ্ঞদের একটি দল এতে অংশ নেয়।
উদ্ধারকারীরা টানেলের একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যান। এরপর থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে টানেলের ভেতরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। যেসব জায়গায় সরাসরি যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বা কঠিন ছিল, সেখানেও ড্রোন দিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু সেখানে কারও উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত দলটি রাসুওয়াগাধি প্রকল্পের টানেলে তল্লাশি শেষ করে ফিরে এসেছে। ড্রোনের মাধ্যমে টানেলে কেউ নেই বলে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান বন্ধ করে উদ্ধারকারীরা রসুয়া জেলার ধুনচেতে ফিরে যান।
এরই মধ্যে নেপালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা টানেলে আটকা পড়েছেন, নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন, নাকি বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন—তা নিশ্চিত করতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন এখনো নিখোঁজ।
এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্প থেকে ২৫৪ জন এবং লাংটাং খোলা প্রকল্প এলাকা থেকে আরও ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন) জানিয়েছে, রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮৯৭ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
(যুগান্তর)