বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন




বেতন দ্বিগুণ সেবা অনিশ্চিত

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৫৪ am
exam jobs bd jobs bdjobs Career Circular chakrir khobor recruitment Candidate বেতন চাকরি খবর চাকুরি বাকরি চাকরিজীবী চাকুরে আবেদন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চাকরী মৌখিক পরীক্ষা প্রার্থী ক্যারিয়ার বিজ্ঞাপন পদ জব সার্কুলার কোম্পানি BCS Examination Bangladesh Public Service Commission বিসিএস পরীক্ষা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন BCS Examination Bangladesh Public Service Commission বিসিএস পরীক্ষা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন Bangladesh Public Service Commission psc বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসি
file pic

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল যৌক্তিক। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এর সময়কাল এবং বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া এর ফলে দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবার মান বাড়বে কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা এসব মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বেতনের সঙ্গে সেবার মান বাড়লে তেমন সমস্যা হবে না। তবে সেবার মান বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, এ খাতে নতুন করে সরকারের এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। এর বিপরীতে কোনো প্রত্যক্ষ রিটার্ন আসবে না। সেবার মান বাড়বে না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলো কর্মদক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে পারলে উচ্চতর বেতন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে না। সংস্থাটির আরেকজন সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। কিন্তু দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও বড় বাজেট ঘাটতির মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণ বা টাকা ছাপানো হলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। ফলে এখন মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত কীভাবে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করে আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রসঙ্গত, সোমবার নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। শিগ্গিরই গেজেট জারি হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর চাপ পড়বে। পুরোপুরি রাজস্ব থেকে এবং ধার করে সবাইকে দিতে হবে। কাজেই বাজারে এর প্রভাব পড়বে। এখন সরকার কীভাবে বিষয়টি ম্যানেজ করবে, সেটাই দেখার বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ানো ঠিক আছে। কিন্তু সময়টা খুবই অপ্রত্যাশিত (আনফরচুনেট)। অর্থাৎ সময়টা বেতন বৃদ্ধির জন্য ভালো সময় নয়। তবে না করেও খুব একটা উপায় ছিল বলে মনে হয় না। কারণ, এই বেতন কাঠামো আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক বছর বেতন বৃদ্ধি হয়নি। কাজেই এর যৌক্তিক কারণ আছে। অর্থাৎ সরকারের হাত-পা অনেকটাই বাঁধা ছিল।’ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘প্রশ্ন হলো-এই সময় এতগুলো টাকা জনগণের পকেট থেকে দিতে হবে। আগে যদি ১০০ টাকা দিতে পারত, এখন ২০০ টাকা দিতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য-অর্থাৎ ১০০ শতাংশের বেশি, ১৪০ শতাংশের মতো। পেনশনও বেড়ে যাবে। তাদের সারা জীবনের আখেরাত খুব ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু জনগণ কী পাবে?’ তিনি বলেন, ‘সেবার মান তো বাড়ছে না। কিছুই বাড়বে না। তাহলে কেন এই ব্যয়টা জনগণ বহন করবে।’ তার মতে, এখানে আদান-প্রদান হওয়া উচিত ছিল। যারা বেশি বেতন পাবেন, তাদের সেবার মানও বাড়াতে হবে। না হলে তাদের একটা দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, এটাও তো তারা আমলে নিল না। সরকারি কর্মকর্তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করতে পারে না। ঘুস খেয়ে তারা লাল হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না। সরকারের অনুমোদন ছাড়া মামলা করা যাবে না। সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘বেতন বাড়বে, আপত্তি নেই। তবে প্রক্রিয়াটিকে শক্তিশালী করা উচিত ছিল। অর্থাৎ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালীভাবে, কাঠামোগতভাবে উন্নয়ন করে তারপর বেতন বাড়ানো উচিত ছিল। সেটা হয়নি। ফলে এই বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণ কিছু পাচ্ছে না।’

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেতন বাড়ানোর এই পদক্ষেপ যৌক্তিক। কারণ, সরকারি চাকরিজীবীরা ১১ বছর ধরে একই পে-স্কেলে কাজ করছেন। এ সময়ে বেতন সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকার আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। বিশেষ করে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। এই বিবেচনায় আমি বলব, সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।’ ড. মোস্তাফিজুর বলেন, ‘বেতন বেড়েছে। তাই সরকারি সংস্থাগুলোকে সেবার মান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।’ তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলো কর্মদক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে পারলে উচ্চতর বেতন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে না। জনসেবা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটি সম্ভব হলে বেতন বৃদ্ধির কারণে চাপ তৈরির যে বিতর্ক চলছে, তার অবসান হবে। নতুন পে-স্কেল মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে কি না-এই প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেল না পাওয়া সত্ত্বেও দেশে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে দুই অঙ্কের মুখোমুখি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটা এই নয় যে বেতন বাড়া উচিত কি না। প্রশ্নটা হলো-সরকার বৃহত্তর অর্থনীতি কীভাবে পরিচালনা করছে। প্রশ্নটা হলো-আমরা কীভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে চাঙা করতে পারি এবং এভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি।’

সিপিডির আরেকজন সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘অনেক বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো সমন্বয় না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তাই বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। তবে বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেহেতু নেওয়া হয়েছে, এখন মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত কীভাবে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করে আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও বড় বাজেট ঘাটতির মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণ বা টাকা ছাপানোর ওপর নির্ভরতা বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় কমিয়েও অর্থের সংস্থান করা উচিত নয়। তাই করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমাতে হবে। বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে চাহিদা ও কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বেতনের ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি কর্মীদের বেতন সমন্বয়ের দাবিও জোরালো হবে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা সমান নয়। তাই উৎপাদনশীলতা, প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি খাতে পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় প্রয়োজন।’

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD