ভালো শিক্ষকের সংকট। আবাসিক হলগুলোতে সিটের সংকট। লাইব্রেরিতে অপর্যাপ্ত বই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুক্তবুদ্ধির চর্চাও সীমিত হয়ে পড়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ছে। গবেষণা কার্যক্রম একরকম নেই বললেই চলে। এসব সংকট নিয়ে ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলো খুব বেশি সাফল্য না পেলেও নিজ নিজ দলের দলীয় কার্যক্রম প্রদর্শনের এক বড় ক্ষেত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
ক্ষমতার বাইরে থাকা ছাত্রসংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথার চেয়ে জাতীয় রাজনীতির সমালোচনায় বেশি ব্যস্ত। অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনগুলো ব্যস্ত ক্ষমতার প্রভাববলয় ধরে রাখতে।
পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে এখানকার ছাত্ররা ভাষাভিত্তিক স্বাধিকারের জন্য গড়ে তোলে দুর্বার আন্দোলন। ষাটের দশকে আইয়ুব খানের শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তেজোদীপ্ত তারুণ্য। শুধু ভাষা ও শিক্ষাভিত্তিক অধিকারই নয়, ঝাঁপিয়ে পড়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে। স্কুল থেকে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ছিল এসব আন্দোলনের নিয়ামক শক্তি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই ধীরে ধীরে ছাত্ররাজনীতি নষ্ট হতে শুরু করে। বর্তমান অবস্থা দেখলে সে অবস্থাটি আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকার কারণে ছাত্ররাজনীতিও সঠিক গন্তব্যে নেই। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি আইন চলত না। আমরা যখন আন্দোলন করেছি, তখনো এমনটাই ছিল। একবার জিয়াউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসেছিলেন। তখন মধুর ক্যান্টিনে সব ছাত্রসংগঠনের নেতারা ছিল, তারা বলেছিল উনি একজন সামরিক শাসক, উনাকে আমরা ঢুকতে দেব না। জিয়াউর রহমান ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি। এর কারণ তখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল। বর্তমান সরকার এখন সে রকম আন্দোলন গড়ে উঠতে দিচ্ছে না। তেমনটি হলে ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে একত্র করতে পারবে। এটি ঠেকাতেই সরকার খুব চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
স্বাধীনতার পর পরই নতুন রূপে আবির্ভূত হয় ছাত্ররাজনীতি। ছাত্রনেতারা নিজেদের জড়িয়ে ফেলেন মূলধারার দলগুলোর রাজনীতিতে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রধান রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন থেকে অলিখিতভাবে পরিণত হয় অঙ্গসংগঠনে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার মান নিশ্চিত করার আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে প্রাধান্য দেয় চলমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও নিজ নিজ দলের পরিকল্পনা টিকিয়ে রাখতে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, ‘ছাত্রদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় থেকে দেশ ও সমাজকেন্দ্রিক মতাদর্শ তৈরি হওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেটা মানসিক পরিপক্বতার অংশ। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছুটা দুর্বলতার কারণে সাংগঠনিক পরিচয় ও কার্যক্রমটা ছাত্রদের জন্য মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাকে আমি ছাত্ররাজনীতির দুর্বলতা বা ছাত্রসংগঠনগুলোর সমস্যা বলব না। আমি বলব উচ্চশিক্ষার মাপ, মান ও ধাঁচে শিক্ষকদের যথেষ্ট পরিমাণ যত্ন না থাকা ও পড়াশোনার প্রক্রিয়াটায় দুর্বলতাই মূল ভূমিকা পালন করছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের দুর্বলতা থেকেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা পদ-পদবির জন্য দৌড়াদৌড়ি আর বিসিএসের গাইড মুখস্থ করছে। অনেক সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়ে যায়। ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পায় না। নানা রকম বুলিং, র্যাগিং ও সহিংসতা হচ্ছে, যা ছাত্ররাজনীতির সমস্যা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবে এখানে ছাত্ররাজনীতির দোষ বা গুণের কিছু না, বরং সার্বিক ব্যবস্থায় সমস্যা আছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, নতুন নতুন জ্ঞান অন্বেষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং গবেষণায় কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অথচ এটিই হওয়ার কথা উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য। তা না করে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি বা পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিভাগ খোলা হচ্ছে। যেখানে কিছুদিন পরপরই নানা ধরনের নিয়োগ ও শিক্ষকদের রাজনীতি-অনিয়মের খবরও সামনে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সংগঠিত হওয়া ছাত্রনেতারাই দাবি আদায়ের নেতৃত্ব দিতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই হলগুলোতেই এখন গেস্টরুম কালচার চালু হয়েছে, যেখানে নষ্ট হচ্ছে তারুণ্যের শক্তি। গবেষণা ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিক্ষক নিয়োগ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্ত হয়ে পড়ছে সংগঠনটির নেতারা। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায়ও জড়িয়েছেন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পরিবর্তনের ধারাটিও হারিয়ে গেছে ছাত্ররাজনীতি থেকে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাত্র অধিকার আদায়ের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ ধারণার আলোকে কীভাবে স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারি সেজন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। বর্তমান সময়ে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। আমরা দায় অস্বীকারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বা যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অবলম্বন করেছি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, মৌলবাদমুক্ত, সেশন জটমুক্ত ক্যাম্পাস পেয়েছি। আমরা আগামী দিনে অ্যান্টি র্যাগিং ক্যাম্পেইন ও মুভমেন্ট শুরু করতে চাচ্ছি। অ্যান্টি সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট মুভমেন্টকে আমরা ছাত্ররাজনীতির বিষয়বস্তুতে নিয়ে আসতে চাই। শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পারলে এবং যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তখন বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও প্রশাসনকে তত্পর করতে পারলে এ ঘটনাগুলো কমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে বেশিদূর এগোতে পারেনি। ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় তারাও তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বরং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের দাপটে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিছিল-মিটিংও করতে পারছে না।
ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, ‘যেকোনো দেশের ছাত্ররাজনীতি সে দেশের জাতীয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ছাত্রসংগঠনগুলো আসলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। মূলত দেশের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বৈরাচারী সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সরকারি ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক সহাবস্থান নেই, কোনো ছাত্রসংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থে স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারে না। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিরাজমান। এসব কারণেই মূলত ছাত্রসংগঠনগুলো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে না, যদিও কিছু আন্দোলন গড়ে উঠেছে কিন্তু ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐক্য না থাকার কারণে এবং সরাসরি সরকারি মদদ ও সহায়তায় সরকারি ছাত্রসংগঠনের নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণেই সেগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’
ছাত্র অধিকার আদায়ের প্রেক্ষাপটে বামপন্থী নেতারা বরাবরই ছিলেন সামনের সারিতে। প্রগতিবাদী অর্থাৎ বামপন্থী নেতাদের মধ্যে মোহাম্মদ তোয়াহা, আবদুল মতিন, মোহাম্মদ ফরহাদ, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো ও মতিয়া চৌধুরীরা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু তাদের উত্তরাধিকার ধরে রাখতে পারেনি সেই জৌলুসপূর্ণ অবস্থাটি। বর্তমানে অল্প কিছু বামপন্থী ছাত্রনেতা ছাত্র অধিকার নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু তাদের সেই মৃদু কণ্ঠস্বর পরিবর্তন ঘটাতে পারছে না। যদিও স্বাধীন বাংলাদেশে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তারা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে পাঁচ দশকে তাদের এটি ছাড়া অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জন নেই। শুধু ছাত্র ইউনিয়ন নয়, এ চিত্রটি দেখা যায় ছাত্র ফেডারেশনসহ অন্য বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোয়ও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমান্বয়ে ছোট ও ক্ষীণ হচ্ছে বামপন্থীর প্রভাব ও রাজনীতি।
ছাত্র ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন জয় বলেন, ‘ছাত্রকেন্দ্রিক কিছু দাবি আদায়ে আমরা কাজ করতে পেরেছি। কিন্তু যখনই ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো সামনে আসে তখনই ওই সব বিষয়ে কোনো কথা বলা যায় না। যেমন গেস্টরুম নিয়ে কোনো কথা বলতে পারছি না। কেননা গেস্টরুমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করে রাখা হয়। একই কারণে ক্যাম্পাসে আমরা কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। এখানে প্রশাসনও সরকারের হয়েই কাজ করে। শুধু আমরা নই, অন্যান্য ছাত্রসংগঠন, এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।’
ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিটু সরকার বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি আগের মতো নেই। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো কাজ করতে পারছে না। বর্তমান সরকার ও ছাত্রলীগের জন্য আমরা ক্যাম্পাসে যেতে পারছি না। কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করলেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। শিক্ষা ব্যবস্থার সঠিক প্রণয়ন ও শিক্ষায়তনের অবস্থার উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেই ছাত্রদের হাত ধরেই যাদের মাধ্যমে এ দেশ দেখেছিল স্বাধীনতার সূর্য। তবে অনেকে বর্তমান ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য চর্চা করাটা হলো কল্যাণকর। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি এখন যে অবস্থায় পৌঁছে গেছে সেটি অপরাজনীতি। সেটিকে আমি বলি অপরাধ তৈরির নীতি। বিশেষ করে আমাদের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠনগুলো যে ধরনের রাজনৈতিক চর্চা করছে, সেটি রাজনীতির সঙ্গে যায় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির একটা বৈশিষ্ট্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকেই আন্দোলনের বিকাশ ঘটে। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দখলে রাখার জন্য তারা তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোকে ব্যবহার করে। এখন প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্কটা অনেক শক্তিশালী হচ্ছে। যে ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা যেকোনো ধরনের অপরাধ কার্যক্রম করতে পারে ও পার পেয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে রয়ে যায়, যা তাদের আরো বেশি অপরাধী বানাচ্ছে। এর জন্য মূলধারার দলগুলোই দায়ী। একই সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোও কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছে না। যে রাজনীতি শিক্ষার্থীদের অপরাধী হিসেবে গড়ে তোলে সেটি বর্জন করতে পারলেই সমাজের জন্য ভালো।’ [বণিক বার্তা]