>> রোযা রাখার ধারা অব্যাহত রাখা:
রোযা শুধু রমাযানেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বছর এ রোযার ধারা অব্যাহত রাখা চাই। বিভিন্ন দিনে রোযা রাখার ফযীলতের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। সে সব ফযীলত জেনে তার সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। বছরের বিশেষ কিছু দিনে রোযা রাখার কিছু হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
ক. শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখা:
রমাযানের পর শাওয়াল মাস। এ মাসে ছয়টি রোযা রাখার মাঝে অনেক ফযীলত রয়েছে। হাদীস শরীফে আছে:
من صام رمضان ثم أتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر.
অর্থ : যে ব্যক্তি রমাযানে রোযা রাখার পর শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল, সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।
(সহীহ মুসলিম; হাদীস ২৮১৫)
খ. প্রতি চন্দ্রমাসের তের,চৌদ্দ ও পনের তারিখ রোযা রাখা:
প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তিন দিনের রোযা (আইয়ামে বীযের) রাখার ব্যাপারে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াছল্লাম) ইরশাদ করেন:
ثَلَاثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، فَهَذَا صِيَامُ الدّهْرِ كُلِّهِ.
অর্থ: প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা এবং রমযান মাসের রোযা সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২)
অন্য বর্ণনায় আছে, নবীজী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াছল্লাম) বলেন:
صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ مِنَ الشّهْرِ، صَوْمُ الشّهْرِ كُلِّهِ.
অর্থ: মাসে তিন দিন রোযা রাখা পুরো মাস রোযা রাখার সমান।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫৯)
আর এ রোযা প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখা উত্তম।পরিভাষায় এ দিনগুলো ‘আইয়ামে বীয’ নামে পরিচিত। ‘বীয’ আরবী শব্দ, এর অর্থ : সাদা, উজ্জ্বল। প্রত্যেক চান্দ্রমাসের এ দিনগুলোতে যেহেতু চাঁদের আলো পূর্ণ উজ্জ্বল থাকে এজন্য এই তারিখগুলোকে ‘আইয়ামে বীয’ বলা হয়।
হাদীস শরীফে আছে, রাছুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াছল্লাম) একবার হযরত আবু যর গিফারী (রাদিআল্লাহু তা’আলা ‘আনহু) কে লক্ষ্য করে বলেন:
يَا أَبَا ذَرٍّ، إِذَا صُمْتَ مِنَ الشّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ.
অর্থ: হে আবু যর! তুমি যদি মাসে তিন দিন রোযা রাখ তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রাখ।
(জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৬১)
শাওওয়াল মাসে ৬দিনের সিয়ামের গুরুত্ব:
আবূ আইয়ুব আল আনসারী (রদ্বিয়াল্ল-হু আনহু) হতে বর্ণিত।রসূলুল্ল-হ সল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমাদান মাসের সিয়াম পালন করলো, অতঃপর শাওওয়াল মাসে ছয়টি সিয়াম আদায় করলো, সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করলো।”
(মুসলিম: ১১৬৪, তিরমিজী: ৭৫৯, আবূ দাঊদ: ২৪৩৩, ইবনু মাজাহ: ১৭১৬, দারেমী: ১৭৯১)
IFM desk