শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন




সংলাপেই সংকট উত্তরণ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩ ১০:৪৪ am
sanglap DIALOGUES Dialogue সংলাপ
file pic

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আরও ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। দেশি-বিদেশি নানা তৎপরতার পরও বড় দুদল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আগের অবস্থানেই অনড়। সমঝোতার দৃশ্যমান কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। সংকট উত্তরণে সংলাপই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন সবাই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমঝোতাতে আসতেই হবে। অনড় অবস্থান থেকে সরে এক টেবিলে বসলে বেরিয়ে আসবে সমাধানের পথ

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন-এমন অনড় অবস্থানে ক্ষমতাসীন ও তাদের মিত্ররা।

অন্যদিকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা ৩৬টি দল। সরকার পদত্যাগে একদফা দাবিতে ইতোমধ্যে রাজপথের আন্দোলন জোরদারে ব্যস্ত তারা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এর বাইরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থি কয়েকটি দল মনে করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

রাজনৈতিক দলগুলোর এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে নির্বাচন নিয়ে সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংকট উত্তরণে সমঝোতার বিকল্প নেই। সংলাপের মাধ্যমেই সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হবে। বড় দুটি দলকে তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে এক টেবিলে বসতে হবে। আলোচনায় বসলেই কেবল সমাধানের একটা পথ বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। সংকট সমাধানে সংলাপের বিকল্প একমাত্র সংলাপেই।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশিদের নানা তৎপরতার পরও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তবে পর্দার আড়ালে কোনো কিছু হয়েছে কিনা তা এখনো দৃশ্যমান নয়। পর্দার আড়ালে কিংবা বাইরে যেভাবেই হোক সবার প্রত্যাশা সংকটের সমাধান। না হলে সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেরকম পরিস্থিতি কেউ চাই না।

রাজনৈতিক দলগুলোর সবশেষ অবস্থান : আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগের অবস্থানেই অনড় আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলটির নেতারা। ১২ জুলাই রাজধানীতে এক শান্তি সমাবেশে একদফার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই হবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেও তারা এ বার্তাই দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি (জেপি, মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ বাকি দলগুলোর অবস্থানও একই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ঠিক বিপরীতে অবস্থান বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সরকারের পদত্যাগে এক দফা আদায়ে রাজপথের যুগপৎ আন্দোলন করছে। বিদেশিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি। রোববার চট্টগ্রামে এক শ্রমিক সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সবশেষ অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘বিদেশিরা কে কি বলল তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার-শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না।’

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চাওয়া একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন। শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন অবস্থান তুলে ধরে দলটির মহাসচিব ও সাবেকমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন ‘জাতীয় পার্টির এক দফা আছে। আর তা হচ্ছে-আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। চলমান সংকট নিরসনে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান এ দেশের রাজনীতিবিদদেরই করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন আলাপ-আলোচনায় বসা। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে এই আলোচনায় বসার মূল উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকেই নিতে হবে। একটি বিষয় পরিষ্কার, আর তা হচ্ছে-সংলাপ ছাড়া চলমান সংকটের সমাধান হবে না।’

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ ইসলামপন্থি কয়েকটি দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে না গেলে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ প্রসঙ্গে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে সোচ্চার আছি।

সমঝোতার বিকল্প দেখছেন না বিশ্লেষকরা : আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সমঝোতার বিকল্প দেখছেন না বিশ্লেষকরা। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। সময় খুব কম। তাই সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত আলোচনায় বসতে হবে। অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে বসলেই কেবল সমাধান আসবে। সংলাপে বসার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করতে হবে। দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। তা হলেই সমঝোতা সম্ভব। সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই।

জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংলাপের মাধ্যমেই সংকটের সমাধান করতে হবে। বিদেশিরা এসে ভেতরে কী বার্তা দিয়েছেন তা আমরা জানি না। যাদের বলেছেন তারাই বলতে পারবেন। তবে সংকট সমাধানে সংলাপ করা উচিত বলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা মত দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সংলাপে বসার মতো কোনো লক্ষণ দেখছি না। নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে ১৫-২০ দিনের মধ্যেই ফয়সালা হতে পারে। কী হবে জানি না। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর হবে বলে মনে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকারকেই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ শক্ত অবস্থায় সরকারই আছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবকিছুই তাদের হাতে। রাজনীতিতে গিভ অ্যান্ড টেকের ব্যাপার আছে। কে কতটু নেবে, কে কতটুকু দেবে এমন বিষয় রয়েছে। কয়েক বছর ধরে তাই দেখছি। এভাবে চলতে থাকলে দেশ যে সুখকর অবস্থায় থাকবে তা মনে হয় না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চাপসহ বর্তমানেও খুব ভালো অবস্থায় আছি এটা বলা যাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংকট সমাধানে আলোচনা না হলে রাজপথে গড়াবে রাজনীতি। অতীত ইতিহাস তাই বলে। আপাতত রাজনীতি সেদিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সরকারের পদত্যাগে একদফা দাবিতে রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলনে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। অন্যদিকে বিএনপিকে মোকাবিলায় রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগও। রাজপথে দুদলের এমন মুখোমুখি অবস্থানে রাজনীতি ফের সংঘাতময় হয়ে ওঠার আশংকাই তীব্র হচ্ছে।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সমঝোতার বিকল্প নেই। সংলাপের বিকল্প একমাত্র সংলাপই। বড় দুই দলকে ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। তাহলে একটা সমাধানের পথ বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্ত সংলাপ না হলে এ সংকট আরও ঘনীভূত হবে। রাজপথে বাড়বে সহিংসতা। যা কেউ চায় না।

তিনি বলেন, দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষের প্রত্যাশা এবং বিদেশিদের নানা তৎপরতার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। নেতাদের বক্তব্যে আগের অনড় অবস্থানের বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে। তবে পর্দার আড়ালে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানি না। সেরকম কিছু হলেও সেটাও প্রকাশ্যে আসতে হবে।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে এখনো অনড়। এ অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচনের সময় বেশি নেই। সংলাপের ব্যাপারে তাদের নমনীয় হতে হবে। সমঝোতা না হলে কি হবে সেটা সবাই জানে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে দিতে পারে। দেশের কথা চিন্তা করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করলেও নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে নিশ্চুপ বিদেশিরা। ওয়াশিংটন চায়, বাংলাদেশ নিজেই নির্বাচনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করুক। ইইউ চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের পক্ষে হলেও নিজে এতে যুক্ত হতে চায় না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা কীভাবে সহায়তা করবে-এ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সবার মধ্যে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সফরের পর এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারা আবার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা এমন শঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় বাধা হলে ভোটের আগেই ভিসানীতির প্রয়োগ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু ভোট নয়, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বাধা, স্বাধীন মতপ্রকাশে হস্তক্ষেপ, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন কারণে ভিসানীতি প্রয়োগ হতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার নিকটাত্মীয়কে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেবে না কিংবা ভিসা বাতিল করবে। এমন ইঙ্গিত পেয়ে সতর্ক সরকার। রাজনীতিবিদ, আমলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে বিষয়টা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কখন কী পদক্ষেপ আসছে তা নিয়ে সন্তর্পণে বিশ্লেষণও হচ্ছে।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের আলোচনা হয়েছে। জাকার্তায় আসিয়ান-এআরএফ সম্মেলনের সাইডলাইনে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। মন্ত্রী রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘ব্লিংকেনের সঙ্গে খুব ভালো আলাপ হয়েছে। আমাদের ব্যাপারে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) খুবই খুশি। চাইনিজদের উত্থান নিয়ে তাদের কিছুটা উদ্বেগ আছে। এছাড়া, অন্যান্য বিষয়ে তাদের খুব বেশি ইন্টারেস্ট নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি জোর দিলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে তেমন কিছু বলছে না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মনে করে, কোনো বড় রাজনৈতিক দল ভোট বর্জন করলে ফলাফল আগেই জানা হয়ে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন না হলে তা পর্যবেক্ষণের কিছু নেই। তাই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে ইইউ কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। বর্তমানে ইইউ নির্বাচনি অনুসন্ধানী মিশন দুই সপ্তাহের সফরকালে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠককালে জানানো হচ্ছে যে, সিদ্ধান্ত হলে ইইউ ১৮০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। তবে সরকারকে এজন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাতে হবে। আবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভিসা দিতে হবে।

কানাডা, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। কেউ সহিংসতা চায় না। যদিও সম্পর্কের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় অনেক দেশই তা প্রকাশ্যে তা বলতে চায় না। সরকারের সঙ্গে গোপনে তাদের প্রত্যাশার কথা বলছে।

নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারসংক্রান্ত উজরা জেয়ার মিশন। এই প্রতিনিধিদলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি’র সহকারী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অঞ্জলি কৌর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মার্কিন প্রতিনিধিদল সফরকালে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষে অবস্থান নেবে না। তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে অঙ্গীকার করেছেন; যুক্তরাষ্ট্র সেটাই দেখতে চায়।

সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো পর্যায়ের কূটনীতিকের আচরণে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, বাইডেন প্রশাসন শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। উজরা জেয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল সরকারের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করেছে। এসব ব্যাখ্যায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি আওয়ামী লীগের বিপক্ষেও নয়। ভিসানীতির লক্ষ্য হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কূটনৈতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এটাও অবহিত করেছে যে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কেউ ব্যত্যয় ঘটালে ভিসানীতি প্রয়োগ শুরু হতে পারে যে কোনো সময়। এমন হলে তা নিয়েও ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসানীতি প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশে নির্বাচনের পূর্বে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে দিল্লির অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া, উজরা জেয়ার প্রতিনিধিদল ভারত সফর শেষ করে বাংলাদেশ সফরে এসেছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘ইনসাইড আউট’-এ যোগ দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি হয়ে আসায় সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের মনোভাব পরিবর্তন ঘটেছে। তারা বাংলাদেশে আসার আগে খুবই উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসি, লন্ডন, ব্রাসেলস থেকে ফাঁস হয়েছে যে, তারা এখানে আসছে, কী জানি ঘটে।

আমেরিকান দল এল নয়াদিল্লি হয়ে। নয়াদিল্লি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আমেরিকানদের বাংলাদেশ সফরে পুরো কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। দিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওয়ালিউর রহমান।

এদিকে, কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বাংলাদেশের এমন একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে বলে চীন ও রাশিয়া মন্তব্য করার পর ওয়াশিংটন কৌশল পরিবর্তন করেছে। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল কী হতে পারে সে ব্যাপারে তিনি কোনো ধারণা দিতে পারেননি। [যুগান্তর]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD