বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে দেখা করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় শীর্ষ নেতা। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তারা খালেদা জিয়ার কেবিনে যান। সেখানে ১৫ মিনিটের মতো অবস্থান করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা।
শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে গত ৯ আগস্ট থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন খালেদা জিয়া।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘ম্যাডামকে ভীষণ অসুস্থ দেখাচ্ছিল। উনাকে আগে কখনও এমন দেখিনি। উনার ইমিডিয়েট বিদেশে চিকিৎসা দরকার। চিকিৎসকেরা বলেছেন উনার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করানো অপরিহার্য। আমরা দ্রুত উনাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।’
সাক্ষাতে কুশলের বাইরে নেতাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন ও চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন খালেদা জিয়া।
মঞ্চের অন্যতম নেতা সাইফুল হক বলেন, ‘তিনি বলছেন, এই সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা যেটি তিনি উল্লেখ করেছেন তা হচ্ছে, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন কোনও দলের নয়, এটা ভোটের, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’
বিএনপির চেয়ারপারসনকে উদ্ধৃত করে সাইফুল হক বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। যারা আছেন আন্দোলনে সবাই সমস্ত শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকেন। রাজপথে শামিল থাকেন। তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন। তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন, ভোটাধিকার অর্জনের মধ্য দিয়ে একটা সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সবকিছু ভেঙে পড়েছে। অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।’
খালেদা জিয়ার মনোবল অত্যন্ত শক্ত আছে বলেও জানান সাইফুল হক।
রাত পৌনে ১১টার দিকে এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। এ দলে ছিলেন আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, হাসনাত কাইয়ুম।
হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কথা বলার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া। তারপরও আমরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। জানিয়েছি, এক দফা আন্দোলন করছি। সামনের মাসে আরও জোরদার আন্দোলন করবো। উনি বলেছেন, আপনারা যারা বাইরে আছেন তারা সবাই মিলে আন্দোলন করেন। আমি দেখতে চাই আপনারা আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে। আমাদের একজন নেতা বলেছেন, সরকার নির্বাচনের জাল বিছানোর চেষ্টা করছে। উনি বলেছেন, কোনও অবস্থায় নির্বাচনি ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’