আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুর’আনে কসম করেছেন: ‘কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।’
(সূরা আল-ফাজর, আয়াত : ১-২)
আয়াতে ‘কসম দশ রাতের’ বলে জিলহাজ্জ-এর দশকের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে তাফসীরবিদরা মত পোষন করেছেন।
এই দশদিনের মধ্যে রয়েছে ইসলামের পাচঁটি স্তম্ভের অন্যতম ‘হাজ্জ’ এবং এর কার্যক্রম।
▪︎১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু, যাকে তাঁর মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে।”
(সহীহ বুখারী (ইফা.), অধ্যায়: ২২/ হাজ্জ, হাদিস নম্বর: ১৪৩১)
▪︎২. রাসুল (সা.) আরও বলেন,
‘আরাফা দিবসই (৯ই জিলহাজ্জ) হাজ্জ’। মূলত আরাফা দিবসই হাজ্জ!
(তিরমিযী: ৮৯৩; নাসায়ী : ৩০১৬)
▪︎৩. এদিনে (হাজী ছাড়া অন্যদের জন্য) সাওম রাখার ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, “আরাফার দিনের সাওম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিগত ও আগত বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন।’ অর্থাৎ দুই বছরের রোযা
(মুসলিম : ১১৬৩)
▪︎৪. এই দশদিনের মধ্যেই রয়েছে কুরবানী ও ঈদুল আযহা
▪︎৫. কুরবানীর অনুমোদনের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলেন,”তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সলাত পড় এবং নহর কর”।
(সুরা আল কাউসার : ২)
▪︎৬. মহান আল্লাহ বলেন,
‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে আমি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলির উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে…’
(সূরা হাজ্জ: ৩৪)
▪︎৭. রাসুল (সা.) আরও বলেন,
‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো কুরবানীর দিন অতপর স্থিরতার দিন’। (অর্থাৎ কুরবানীর পরবর্তী দিন। কারণ, যেদিন মানুষ কুরবানী ইত্যাদির দায়িত্ব পালন শেষ করে সুস্থির হয়।) (নাসায়ী: ১০৫১২; ইবন খুযাইমা, সহীহ: ২৮৬৬)
▪︎৮. রাসূলে (স.) বলেছেন, “হে মানব সকল! প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব হল প্রতি বছর কুরবানী দেয়া।”
(মুসনাদ আহমাদ, ইবনে মাজা- ৩১২৫ হাদিসটি হাসান)
▪︎৯. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“সামর্থ্য থাকা সত্বেও যে কুরবানী করল না সে যেন ঈদগাহের ধারে না আসে।”
(মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ ৩১২৩ হাদিসটি হাসান)
▪︎১০. রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে এই দশদিনের আমলের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
▪︎১১. রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“এমন কোনো দিন নেই যার আমল যিলহাজ্জ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হল এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফেরত এলো না (তার কথা ভিন্ন)।’
(বুখারী: ৯৬৯; আবূ দাউদ: ২৪৪০; তিরমিযী: ৭৫৭)
▪︎১২. রাসুল (সা.) আরও বলেন,
“এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।’
(মুসনাদ আমহদ : ১৩২; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪)
▪︎১৩. ৯জিলহাজ্জ ফজর থেকে ১৩জিলহাজ্জ আসর পর্যন্ত ৫দিন প্রতি ওয়াক্তের ফরজ সলাতের পর তাকবিরে তাশরিক,”আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ” পাঠ করা সুন্নাহ (সুনানে বায়হাকী কুবরা, ৬০৭১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, ৫৬৮১);
▪︎১৪. বছরে যতগুলো মর্যাদাপূর্ণ দিন আছে তার মধ্যে এ দশ দিনের প্রতিটি দিনই সর্বোত্তম। তাইতো রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দিনগুলোতে বেশি বেশি করে সলাত, সাওম, সাদকা, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে বছরের এই শ্রেষ্ঠ দশটি দিনকে উত্তম কাজে ব্যয় করার সামর্থ্য দান করুন। আমিন।
-মীর ইমদাদুল্লাহ লিবিয়ানী।
IFM desk