চীনের প্রিমিয়ার অব দ্য স্টেট কাউন্সিল লি শিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিপক্ষীয় এ সফরে কোনো চুক্তি সই হবে না। তবে ২০টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে, কোনো চুক্তি হচ্ছে না। চীন আমাদের বড় উন্নয়ন সহযোগী। প্রচুর চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে রয়েছে। গত কয়েক দশকে চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমাদের উন্নয়নের বিষয়টি মূল অগ্রাধিকার পাবে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা। এ সফরে দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চীনের সঙ্গে কী ধরনের ঋণ সহায়তা বা চুক্তি হবে– জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমঝোতার তালিকায় কোনো ঋণ সহায়তা নেই। অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সই হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব বলা যাচ্ছে না, কারণ কোনো চুক্তি হচ্ছে না।
যেহেতু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা হবে, তাই ভবিষ্যতে চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রয়োজনের নিরিখে সহযোগিতা হতে পারে।
বাজেট সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব নিয়ে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, প্রয়োজনের নিরিখে বাংলাদেশের শর্তগুলো পূরণ হলেই সহযোগিতা গ্রহণ করা হয়। সমঝোতার তালিকায় এ ধরনের কোনো প্রস্তাব নেই। এটি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। চীনকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যে কোনো বিদেশি ব্যাংক বা রাষ্ট্র বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারে। তবে এখানে দেখার বিষয় রয়েছে বাংলাদেশ সম্পর্ক বিবেচনায় কাকে তা রাখতে দেবে। চীনের তিব্বত ও তাইওয়ান নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী– জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতায় বিশ্বাস করে।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগিতা (জিডিআই) নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় ফোরামগুলো নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে চীনসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
তিস্তা নিয়ে চীনের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, তিস্তা বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের যৌথ নদী। তিস্তার যৌথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ভারত একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তারা একটি কারিগরি দল পাঠাবে বলে আমাদের জানিয়েছে। বাংলাদেশে এসে ওই কারিগরি দল যৌথভাবে সমীক্ষা করে কী করা উচিত, সে ব্যাপারে পরামর্শ দেবে। যেহেতু দুই দেশের যৌথ নদী এবং যাদের সঙ্গে যৌথ নদী তাদের প্রস্তাব আছে, সুতরাং আমাদের সেই প্রস্তাবটি প্রথমে বিবেচনা করতে হবে স্বাভাবিকভাবেই। চীনও এ ক্ষেত্রে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি ভালো। যেহেতু ভারত প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা মনে করি সেটি ভালো দিক। তারা (চীন) যদি আলোচনায় আনে, তাহলে তো আলোচনা হবে।
বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৈষম্য অনেক। বাংলাদেশি পণ্য আরও বেশি করে নিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো যেন দূর করা হয় এবং চীনের আমদানিকারকদের যাতে এখান থেকে পণ্য সংগ্রহে আরও উৎসাহী করা হয়, সে বিষয়ে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ব্যবসা ও অর্থনৈতিক খাতে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সহযোগিতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।