রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন




ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৮১৯ জনের মৃত্যু: এইচআরএসএস

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৪৫ pm
বিক্ষোভ মহাসড়ক মহা সড়ক Factory guard killed Gazipur road accident workers workers block highway ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক ট্রাক চাপায় কারখানা নিরাপত্তাকর্মী মৃত্যু বিক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিক অগ্নিসংযোগ যানবাহন ভাংচুর চলাচল বন্ধ gazipur_rmg gazipur rmg rmg আগুন Wildfire দাবানল wildfire forest fire bushfire wildland fire rural fire unplanned uncontrolled unpredictable fire combustible vegetation দাবানল বনভূমি গ্রামীণ বনাঞ্চল অনিয়ন্ত্রিত আগুন পাহাড়িয়া অঞ্চল উষ্ণ তাপক-শিখা পোড়াতে বন। উঁচু গাছ ক্যানপি আগুন Textiles Textile garment factory garments industry rmg bgmea worker germent পোশাক কারখানা রপ্তানি শিল্প শ্রমিক আরএমজি সেক্টর বিজিএমইএ poshak shilpo পোশাক খাত green factory wb সবুজ কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরি rmg rmg clash gazipur RMG worker killed in road crash: Sparks protest in Gazipur
file pic

ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সারা দেশে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অধিকাংশই গুলিতে আহত হন।

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘন–সংক্রান্ত এক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন এইচআরএসএসের গবেষণা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। ১২টি জাতীয় দৈনিক, এইচআরএসএসের তথ্য অনুসন্ধানী ইউনিট ও সারা দেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এইচআরএসএস বলেছে, নিহত ৮১৯ জনের মধ্যে ৬৩০ জনের নাম তারা জানতে পেরেছে। ১৮৯ জনের নাম জানা যায়নি। ১৬ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩১১ জন এবং ৪ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৫০৮ জন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা বিভাগে ৫০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৫ জন, খুলনা বিভাগে ৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯ জন, রংপুর বিভাগে ২৫ জন, সিলেট বিভাগে ২০ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৩ জন মারা গেছেন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪৬ জনের মৃত্যুর ধরন বিশ্লেষণ করতে পেরেছে এইচআরএসএস। তাতে দেখা গেছে, ৪৫৫ জন গুলিতে, ৭৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে, ৭৮ জন পিটুনিতে ও ১০ জন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং অন্যান্য কারণে ২৪ জন মারা গেছেন।

৪৩৫ নিহত ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে এইচআরএসএস বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৩৭৫ জন, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের হাতে ৩৫ জন এবং গণপিটুনিতে ২৫ জন মারা গেছেন।

নিহত ব্যক্তিদের বয়সও বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি। নিহত ৪৭০ ব্যক্তির বয়স বিশ্লেষণ করে এইচআরএসএস বলেছে, এর মধ্যে শিশু (১৮ বছরের কমবয়সী) ৮৩ জন (১৮%), তরুণ ও যুবক ২৪০ জন (৫১%), মধ্যবয়সী ১২৬ জন (২৭%) এবং বয়স্ক ব্যক্তি ২১ জন (৪.৫%)।

আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পেশাও খোঁজা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২৯৩ জনের পেশা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে ১৪৪ জন শিক্ষার্থী, ৫৭ জন শ্রমজীবী, ৫১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৫ জন সাংবাদিক এবং ৩৫ জন অন্যান্য পেশার মানুষ।

হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি
এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ থেকে ২২ জুলাই শুধু ঢাকা শহরের ৩১টি হাসপাতালে কমপক্ষে ৬ হাজার ৭০৩ ব্যক্তি আন্দোলনে আহত হয়ে চিকিৎসা নেন। হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের হাত, পা অথবা চোখ হারিয়েছেন। ছয় শতাধিক মানুষ তাঁদের এক চোখ বা দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ২৭০ জন সাংবাদিক আহত, হুমকি, গ্রেপ্তার ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সারা দেশে পাঁচ শতাধিক থানা, ফাঁড়ি ও সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আট শতাধিক ঘরবাড়ি, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৭ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে কমপক্ষে ৯৫০টি মামলায় ৬ লাখের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় অন্ততপক্ষে ১২ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হন। শুধু রাজধানীতেই তিন হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন এবং সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়, প্রায় ৯০ শতাংশই অজ্ঞাতনামা আসামি।

দেশে যখনই কোনো সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ব্যতিক্রম এবারও হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস। প্রতিবেদনে তারা বলেছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কমপক্ষে ৫৩টি হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। এতে ১০টি মন্দির, ১৫৭টি বসতবাড়ি এবং ১৭৭টি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পঞ্চগড় ও রংপুরের তারাগঞ্জে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

দাবিদাওয়া
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরেছে এইচআরএসএস। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা, সব মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা, জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত বিচার শুরু করা, সব নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করা ও তাঁদের পুনর্বাসন করা, সব বিষয় তদারকির জন্য কমিশন গঠন করা।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে বিগত সময়ের সব গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার করা, বিগত সময়ের সব মিথ্যা মামলা চিহ্নিত করে তা প্রত্যাহার করা প্রভৃতি।

আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে এইচআরএসএসের উপদেষ্টা নূর খান বলেন, ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিজ দপ্তরের কর্মী অবৈধভাবে শতকোটি টাকা অর্জন করলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। নিহত ব্যক্তিদের ‘জাতীয় বীর’–এর মর্যাদা দেওয়ার দাবিও জানান নূর খান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD