রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন




পুলিশের ছররা গুলিতেই আবু সাঈদের মৃত্যু

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:৪৭ pm
Mass uprising martyrs injured injure July Martyr July Fighter July Fighters Abu Sayed Abu Sayeed abu_sayeed আবু সাঈদ আবু সাঈদ
file pic

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঈদের মুখ থেকে ঊরু পর্যন্ত ছিল ছররা গুলির চিহ্ন। ছররা গুলি ঢুকে তার শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি করেছিল। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মাথার বাঁ দিকেও আঘাতের কারণে রক্তজমাট ছিল।

আবু সাঈদের মৃত্যুর ২ মাস ৮ দিন পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আবু সাঈদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক রাজিবুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজিবুল ইসলাম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

ময়নাতদন্তের বিষয়ে চিকিৎসক রাজিবুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ছররা গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে। ১০ মিটারের মধ্যে গুলি করায় তার (সাঈদ) শরীরের ভেতরের কিছু অঙ্গ ফুটা হয়েছিল। যার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ময়নাতদন্তকারী এই চিকিৎসকের মতে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

আবু সাঈদের মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে চ্যানেল24 অনলাইনকে রাজিবুল ইসলাম বলেন, তার মাথার বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেটি তিনি পড়ে গিয়ে বা পারিপার্শ্বিক অন্য কারণে হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর কারণ নয়। তাকে গুলি করা না হলে তার মৃত্যু হতো না।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবু সাঈদের খাদ্যনালী ও ঊরুর রক্তনালী জখমের কারণে রক্তজমাট বাঁধে। এই রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদ শকে চলে যান ও মৃত্যু ঘটে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। আর আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD