জিহ্বা এক টুকরা নরম গোশত হলেও এটি মহান আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নিয়ামত। এ জিহ্বার মাধ্যমেই মানুষ হৃদয় জয় করতে পারে, আবার একই জিহ্বার আঘাতে গভীর সম্পর্কও ভেঙে যেতে পারে।
একজন আরব কবি সুন্দরভাবে বলেছেন:
> “তরবারির আঘাতের ক্ষত একদিন নিরাময় হয়, কিন্তু জিহ্বার আঘাতের ক্ষত কখনো নিরাময় হয় না।”
নীরবতা একটি ইবাদাত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।”
(বুখারী ও মুসলিম)
অতিরিক্ত ও অসতর্ক কথাবার্তা অনেক বিপদের কারণ হতে পারে—যেমন: মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, অপবাদ, অন্যকে কষ্ট দেয়া, গোপন ফাঁস করা, আত্মপ্রশংসা, বা অন্যের ত্রুটি অনুসন্ধান।
অপরদিকে, জিহ্বা সংযম করলে হৃদয় পবিত্র হয়, জিকির ও ইবাদতের সুযোগ বাড়ে, এবং পরকালের হিসাব থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন:
> “আর মু’মিনরা অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না।”
(সূরা মু’মিনুন, আয়াত: ৩)
জিহ্বা জান্নাত বা জাহান্নামের পথ
রাসূলুল্লাহ ﷺ সতর্ক করেছেন:
> “মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার প্রধান কারণ তাদের জিহ্বা।”
(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
হযরত উমর (রা.) বলতেন:
> “শরীরের সব অঙ্গ জিহ্বাকে বলে: হে জিহ্বা! তুমি সৎ থাকো, তবে আমরা নিরাপদ থাকবো; আর তুমি যদি বিপথে যাও, তবে আমরাও ধ্বংস হবো।”
আল্লাহ তা’আলা সতর্ক করেছেন:
> “মানুষ যা বলে, তার উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক সদা প্রস্তুত থাকে।”
(সূরা ক্বাফ, আয়াত ১৮)
দু’আ ও আত্মসমালোচনা:
হে আল্লাহ, কল্যাণের দরজা উন্মুক্তকারী! আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করুন, জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণের তাওফিক দিন, আমাদের সময় ও জবানকে অনর্থক ও ক্ষতিকর বাক্য থেকে হিফাজত করুন। আমাদের নেক আমল যেন বৃথা না যায়—আমাদেরকে কৃতজ্ঞ, ধৈর্যশীল ও নিষ্ঠাবান মু’মিন বানিয়ে দিন। আমীন।
IFM desk