শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন




নেপালে সরকার গঠন করতে চলেছে গণ-অভ্যুত্থানকারীরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ৭:১৯ pm
kathumandu আন্দোলন Mass uprising martyrs injured injure July Martyr July Fighter July Fightersগণঅভ্যুত্থান QUOTA REFORM কোটা আন্দোলন blockade shabag Shahbagh Shahbag Blockade শাহবাগ অবরোধ প্রতিবন্ধ আটক কারাগার আবরণ পরিবেষ্টন ঘেরাও shahbagh_quota_protest shahbagh quota protest shahbagh_quota_protest shahbagh quota protest2 Mass uprising martyrs injured injure July Martyr July Fighter July Fighters গণঅভ্যুত্থান হামলা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা: থমথমে ক্যাম্পাস জুলাই গণঅভ্যুত্থান
file pic

সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে নেপালে। প্রাথমিক গণনায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) পছন্দের ও চলতি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। বলতে গেলে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে দলটি।

আরএসপির হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ। জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ‘বালেন’ নামে পরিচিত কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র।

গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অঘোষিত নেতা ছিলেন এই র‌্যাপার। তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের সিংগভাগ।

বালেন্দ্রের দলের চেয়ারম্যান হলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানে। লামিছানে একজন সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক, যিনি তার লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

জানা গেছে, বালেন্দ্র ঝাপা-৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) প্রধান কেপি শর্মা ওলি।

প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, ওলির দল নির্বাচনে বিশেষ ছাপ ফেলতে পারেনি। হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশে যে ১৬৫টি আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হচ্ছে, তার ৮টিতে এগিয়ে রয়েছে ওলির দল। আর বালেন্দ্রের আরএসপি এগিয়ে রয়েছে ৯০টি আসনে। অন্যদিকে, নেপালের সবচেয়ে পুরনো দল গগন থাপার নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে।

নেপালের আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী। আর অন্য দলগুলো এখন পর্যন্ত পেয়েছে দুটি আসন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি অভ্যুত্থানের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ওলির সরকারের। তিন দিন পরে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। সেইমতো বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালে সাধারণ নির্বাচন হয়। লড়াইয়ে ছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল।

সেপ্টেম্বরে নেপালের জেন-জি অভ্যুত্থানেরে মুখে ওলি সরকারের পতনের পর অনেকেই এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রভাব খুঁজে পেয়েছিলেন। যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরে গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে নতুন দল গঠন করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর দেখা যায়, সে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছেন পুরোনো দল বিএনপিতেই। খুব একটা আশাপ্রদ ফল করতে পারেনি এনসিপি। কিন্তু নেপালের অবস্থা পুরো বিপরীত। প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, পুরনো কিংবা পরিচিত দলগুলোর উপরে নয়, বরং দেশটি আস্থা রাখছে তুলনামূলক নতুন দল ও নতুন নেতার উপরেই।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD