নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর তিনি বলেছেন, ‘সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা খান খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধান করব। একইভাবে এই খাল খননের মাধ্যমে আমরা পাড়ের দুই পাশে ফলের গাছ রোপণ করব, মূল্যবান গাছ রোপণ করব, যাতে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি হয়।’
সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখানে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে এখানে খাল খনন করলাম, আগামী পাঁচ বছরে ইন-শা-আল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে আমরা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। বর্ষার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে পানি চলে আসে, নদী-খাল সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উজান থেকে যখন হঠাৎ করে পানি আসে তখন দেখি যে আমরা, নদী খাল-বিলের আশেপাশে যে বাড়িঘরগুলো আছে সেগুলো ভেসে যায়, গরু-ছাগলগুলো ভেসে যায়, ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়, এইরকম সমস্যা যেন না হয়। আমরা চাই খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার সময় যে অতিরিক্ত পানিটা, সেই পানিটা আমরা ধরে রাখব। এই পানিটা ধরে রাখতে পারলে সবার উপকার হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম, সব মৌসুমে যেন আমরা পানিটা কাজে লাগাতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিরাট দেশ একটা। ২০ কোটি মানুষ এই দেশে। এত মানুষের খাবার কি বিদেশ থেকে আনা সম্ভব, বিদেশ থেকে আনা সম্ভব না। এই খাবার আমাদেরকে দেশেই উৎপাদন করতে হবে। আল্লাহ এই দেশের মাটিকে এত উর্বর করে দিয়েছেন যে, বীজ রোপণ করে পানির ব্যবস্থা করলেই ফসল উৎপাদন করা যায়। কাজেই আল্লাহর নেয়ামত এই পানিটাকেই আমাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে মানুষের উপকারে। শুধু খাল না, খালের পাশে যে জায়গা পাবো সেখানে আমরা হাজার হাজার বৃক্ষ রোপণ করব। এই খালের পাশ দিয়ে রাস্তা হবে, যেন আপনাদের হাঁটাচলার জন্য সুবিধা হয়।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখন যেহেতু শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি নেই, খালে পানি নেই, আমাদেরকে ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি তুলে আনতে হয়। এভাবে মাটির নিচ থেকে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই আমাদেরকে মাটির ওপরের পানি যতটুকু সম্ভব ধরে রেখে মাটির নিচের পানি রিজার্ভ রাখতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’