বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন




মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে ‌দাঁড়িয়েছে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:০৬ pm
ইনডেক্স দাম বাড়বে কমবে Inflation মূল্যস্ফীতি dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange শেয়ারবাজার dse ডিএসই Share point সূচক অর্থনীতি economic দরপতন dse ডিএসই শেয়ারবাজার দর পতন পুঁজিবাজার CSE BSEC share market DSE CSE BSEC sharemarket index discrimination সূচক market down INFLATION Inflation মূল্যস্ফীতি dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange শেয়ারবাজার dse ডিএসই Share point সূচক অর্থনীতি economic দরপতন dse ডিএসই শেয়ারবাজার দর পতন পুঁজিবাজার CSE BSEC share market DSE CSE BSEC sharemarket index discrimination সূচক market down
file pic

মূল্যস্ফীতির পারদ নেমেছে; টানা চার মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচক ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছিল। মার্চ মাসে তা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রবিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

মার্চে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মানে হল, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা ২০২৬ সালের মার্চে কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৭১ পয়সা।

নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল; মার্চে এসে তা কমে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অষ্টম মাস ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে ওঠে। নয় মাস পর মূল্যস্ফীতি আবার নয় শতাংশের ঘরে গিয়েছিল। গত বছরের মে মাসে ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ মূল্যষ্ফীতি হয়েছিল দেশে।

এর পর থেকে এই সূচক ৯ শতাংশের নিচেই ছিল। গত বছরের এপ্রিলে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। জুনে এই হার ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয় দেশে; পরের মাস আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অক্টোবরে দেশে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এর পর থেকে আবার চড়তে থাকে; নভেম্বরে বেড়ে ওঠে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জানুয়ারিতে হয়েছিল ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। নভেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

২০২২ সালের জুলাই মাসে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। এরপর আর কখনও ৮ শতাংশের নিচে নামেনি।

টানা কয়েক মাস কমে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে কিছুটা বেড়েছিল; আগস্টে আবার নিম্মমূখী হয়। সেপ্টেম্বরে ফের বাড়ে; অক্টোবরে নামে; নভেম্বরে ফের চড়ে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও বাড়ে।

সবশেষ মার্চে দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চে খাদ্য মূল্যম্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ; ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য এক শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য নয় শতাংশে উঠেছে।

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিয়ে এগোচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে নীতিসুদহার (পলিসি রেট বা রেপো রেট) ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

৩১ আগস্ট ঘোষিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি যতদিন ৭ শতাংশের নিচে না নামবে, ততদিন নীতি সুদহার কমবে না বলে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় পরিস্কার জানিয়ে দেন সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি আহসান মনসুর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্যও সংকোচনমূখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেমে না আসায় এই মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার (পলিসি রেট) ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়।

মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত সংকোচনমূলক অবস্থান বজায় রাখা হবে বলে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বলেছিলেন সবেক গভর্নর আহসান মনসুর।।

রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো একদিনের জন্য টাকা ধার নেয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদহার বা রেপো রেট। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।

রেপোর সুদ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর তহবিল পাওয়ার খরচ আরও বাড়ে। তাতে ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুদহার বেড়ে যায়।

এই হার অপারিবর্তিত রাখার মানে হল, বাজারে মুদ্রাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদহারের লাগাম শিথিল করছে না।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির লাগামা টেনে ধরতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে; কোনো কোনো পণ্যের শুল্ক শূন্য করেছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের ধাক্কায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পরের কয়েক মাস সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করছিল।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য পঁচ শতাংশে নেমে আসে। জুনে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছিল অন্তবর্তী সরকার।

মার্চ শেষে (২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ) দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

গ্রামের পাশাপাশি শহরেও কমেছে

মার্চ মাসে গ্রামের পাশাপাশি শহরেও মূল্যস্ফীতি কমেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এই মাসে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ।

মার্চে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে নেমেছে। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ হয়েছে।

অন্যদিকে মার্চ মাসে দেশের শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ।

মার্চে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে।

মজুরি সূচক বেড়েছে

মানুষের আয় বেশি বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও তা কিনতে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু দেশে প্রায় চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, মার্চ মাসে জাতীয় মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। জানুয়ারিতে জাতীয় মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এর মানে মূল্যস্ফীতি যে হারে বেড়েছে, মজুরি সেই হারে বাড়েনি।

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে মজুরি হার সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ হয়েছে। নভেম্বরে এই হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। আগস্টে ছিল এর চেয়ে বেশি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। জুলাইয়ে আরও বেশি ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

গ্রাম-শহর নির্বিশেষে ১৪৫টি নিম্ন দক্ষতার পেশার মজুরির ওপর হিসাব করে থাকে বিবিএস।

মজুরিনির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়ে।

বিবিএস বলছে, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। দেশে এরকম কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি মতো।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধরে মজুরি সূচক অল্প অল্প করে বাড়ছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে ৭ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে ওঠে।

এভাবে প্রতি মাসেই অল্প অল্প করে বেড়ে অক্টোবরে ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে ৮ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ হয়। নভেম্বরে আরও কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে বেড়ে হয় ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই সূচক ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ১৫, ৮ দশমিক ১৯, ৮ দশমিক ২১ ও ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD