হজযাত্রীদের বয়সসীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেছে সৌদি আরব। আগে ১৫ বছরের নিচে কাউকে হজে যেতে না দেয়ার ঘোষণা দিলেও এখন সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে আবারও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরা হজে অংশ নিতে পারবেন।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, সৌদি আরব হজযাত্রীদের ওপর আরোপ করা ১৫ বছরের বয়সসীমা প্রত্যাহার করেছে এবং আগের নীতিতে ফিরে গিয়ে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের হজে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে বলে শনিবার (২ মে) জানিয়েছে পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ)।
সৌদি সরকার সম্প্রতি যে নতুন নীতি ঘোষণা করেছিল তা এখন বাতিল করা হয়েছে। যদিও সেই নিয়ম ৩ মে থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। পিএএ জানায়, ১৫ বছরের বয়সসীমার কারণে যেসব হজ ভিসা আগে বাতিল হয়েছিল, সেগুলো এখন নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
এয়ারপোর্টস কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বয়সসীমার কারণে বাতিল হওয়া সব ভিসাই আবার বিবেচনায় নেয়া হবে। হজের মহাপরিচালক দপ্তরও নিশ্চিত করেছে যে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে।
এর আগে চলতি বছরের হজে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ১৫ বছরের নিচে থাকা সব হজযাত্রীর ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, আসন্ন হজ উপলক্ষে আগামী ২৭ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি—আরাফাতের দিন) পর্যন্ত ১৫ বছরের কম বয়সী কোনও যাত্রীকে বহন করে কোনও ফ্লাইট সৌদি আরবে যেতে পারবে না।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হজযাত্রীদের জমা দেয়া অর্থ পুরোপুরি ফেরত দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল সৌদি সরকার।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে হজ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল। সেদিন দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচি থেকে একটি বেসরকারি এয়ারলাইনের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১৬০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় পাকিস্তান থেকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার হজযাত্রী মদিনা ও মক্কায় যাবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ২৩০ জন। আর নারী হজযাত্রীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৮৪৬ জন।