শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন




শ্রমিক সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা

শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে অবজ্ঞা করে সমাজ টেকসই হতে পারে না

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ৯:১১ pm
Bangladesh Jamaat-e-Islami amir dr Shafiqur rahman জামায়াত ইসলামী আমির ডা শফিকুর রহমান Jammat Amir amir
file pic

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রত্যেক সমাজেই অন্যান্য পেশার চেয়ে শ্রমিকদের সংখ্যা বেশি। এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও মর্যাদাকে অবজ্ঞা করে একটা সমাজ কখনো টেকসই হতে পারে না। সত্যিকারের উন্নয়ন আসতে পারে না।

তিনি বলেন, শ্রমিক অঙ্গনের ন্যায্যতা এবং মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এদেশে মালিক এবং শ্রমিকের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ একটা বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হোক যাতে উভয়েই লাভবান হয়। আমরা সেই দেশটিই গড়তে চাই; সেই নতুন বাংলাদেশটি আমরা দেখতে চাই, যেই বাংলাদেশ ন্যায় ইনসাফ এবং মানবতার ওপর দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে আওয়াজ দেবে।

তিনি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট চত্বরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নামে এক শ্রেণির নেতা ব্লাকমেইলিং করেন। যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা আবার শ্রেণি সংগ্রামের আওয়াজ তোলেন। তারা বলেন, শ্রেণি শত্রু খতম করতে হবে। শত্রু কারা, শত্রু হচ্ছে মালিক পক্ষ। আচ্ছা মালিকই যদি না থাকে তাইলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? আমরা ওই খতমের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা মর্যাদা ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মালিক যদি শ্রমিকের ওপর ইনসাফ করে, শ্রমিক তার সমস্ত যোগ্যতা উজাড় করে মালিককে সহযোগিতা করবে কাজ করবে। কিন্তু মালিক যদি শ্রমিককে ঠকায় তাইলে স্বাভাবিকভাবে ছায়ার দিকে পা তুললে ছায়াও কিন্তু পা তোলে। তখন আর ওই শ্রমিক বন্ধুটি তার সমস্ত যোগ্যতা উজাড় করে ওই মালিকের জন্য কিছু করবে না। এতে উভয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা কারোই ক্ষতি চাই না; আমরা চাই মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সমন্বয়। আজকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি ১৮ কোটি ২০ কোটি বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলেন, তার মধ্যে বিশাল অঙ্গনজুড়ে শ্রমিকদের পদচারণা। শুধু দেশের ভিতরে নয় বাইরেও বটে। আজকে তো দেশের ভিতরের শ্রমিক ভাই বোনদের জন্য আমরা কথা বলছি, বাইরের যারা তারাও তো আমাদের ভাই-বোন তাদের জন্য কথা বলবে কে?

তিনি বলেন, সামান্য রুটি রুজির আশায় একটু আশ্রয়ের আশায় একটু ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে নৌকার ওপর চড়ে বসে, তারপরে কোন একটা ঢেউ এসে তাদেরকে সমুদ্রের পেটে হজম করে ফেলে। আর কেউ ভাগ্যবসত চলতে চলতে কোন সুরত যেখানে গিয়ে পৌছতে চায় সেই বন্দরে ভিড়ে। ওখানে ভেড়ার পর কারো জায়গা হয় কারাগারে, আর কারো জায়গা হয় বনে জঙ্গলে। তারপরে আস্তে আস্তে পথ খুঁজে নেয়। সেই সমস্ত লোকেরা যখন একটু কাজ কর্ম করে, তখন বিদেশের মাটিতে প্রাসাদ গড়ার চিন্তা করে না; তাদের অর্জিত সমস্ত সম্পদ প্রিয় দেশে আপনজনের জন্য দেশের জন্য পাঠিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, বৈধ পথে অনেক শ্রমিক যান, তারা যাওয়ার পথেই দালালদের খপ্পরে পড়েন, সিন্ডিকেটের কবলে পড়েন। যে টাকা দিয়ে পাশের দেশসমূহের লোকেরা যায় তার চাইতে তিন গুণ চার গুণ ওই দালালদেরকে দিয়ে তাদেরকে বিদেশে যেতে হয়। তখন তারা সেই টাকা তুলতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করে। দুই চারটা দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, দেখার সুযোগ হয়েছে; তারা তিনটা শিফটে একটা সিট ভাগাভাগি করে ঘুমায়। সেই সিটের প্রস্থ হচ্ছে আড়াই হাত; একজন ঘুমাইলে ওখানে আরেকজন ঘুমাতে পারবে না, একজনের ঘুম না ভাঙলে আরেকজনকে অপেক্ষা করতে হবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।

জামায়াত আমির বলেন, তাদের মুখের গ্রাস তারা স্যাক্রিফাইস করে দেশে টাকা পাঠায়। আমরা খুব সুন্দর করে বলি তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। কিন্তু এই যোদ্ধাদেরকে আমরা মর্যাদা দেই না। তারা যখন পাসপোর্ট রিনিউ করতে যায় ঘাটে ঘাটে দালালের খপ্পরে পড়ে, বিলম্বিত হয়ে তারা কষ্ট পায়। সেখানে মিশন আছে, হাই কমিশন আছে, সেখানে আমাদের এম্বাসি আছে, বড় বড় কর্মকর্তা কর্মচারীরা আছেন, কিন্তু আমাদের এই ভাই-বোনদেরকে সেখানে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা কেউ যখন চাকরি হারায়, অনেকে অসঙ্গত ভাবেও হারায়, তাদের পাশে দাঁড়ানোর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা এই পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না; আমরা দেখতে চাই যেমন করে তাদেরকে রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হয়েছে, তেমন করে যেন তাদের মর্যাদাটাও তাদেরকে দেওয়া হয়। তাদের প্রয়োজনে দেশ এবং সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়। যদি ওই সমস্ত এম্বেসি এই কাজ না করতে পারে ওখানে এম্বেসি থাকারই কোন প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির সংসদ হবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু; আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) আপনাদের পক্ষে কথা বলেছি। আমরা ওখানে গালগল্প করতে যাইনি, আমরা ওখানে ইতিহাসের মাস্টার কিংবা ছাত্র হতেও যাইনি। আমরা ওখানে গিয়েছি এদেশের দুঃখী মানুষের জন্য কথা বলতে। আপনারা দোয়া করবেন যতদিন সংসদের ভিতরে থাকবো ভিতরেও যেন আপনাদের জন্য লড়াই করে যেতে পারি। আর বাইরের লড়াইও চলবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিমের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ প্রমুখ।

সমাবেশে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিক-মেহনতি মানুষ অংশগ্রহণ করেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD