বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন




৮-১২ ঘণ্টায়ই লোডশেডিং, গাজীপুরে ব্যাহত কারখানার উৎপাদন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২:২১ pm
বিদ্যুৎ loadshedding energy crisis electricity power grid বিদ্যুত বিভ্রাট লোডশেডিং মেগাওয়াট বিদ্যুত power
file pic

গাজীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮-১২ ঘণ্টায়ই থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে ব্যাহত হচ্ছে কল-কারখানার উৎপাদন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুরে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫৪৪ মেগাওয়াট। তার মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩১৩ মেগাওয়াট। এতে ২৩১ মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় জেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা গত কয়েকদিনের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শিল্পকারখানা অধ্যুষিত এলাকায় কম লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিল্পোদ্যোক্তাদের। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে চলতি এসএসসি, দাখিল ও ২ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলা শহর এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কড্ডা ফিডারভুক্ত চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, নাওজোর, ইটাহাটা, ইসলামপুর, দিঘিরচালা, চান্দনা ও নলজানিসহ আশপাশের এলাকায় দিনভর বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে এসব এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

বলাকা গার্মেন্টস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পরিচালক সোহরাব হোসেন বলেন, ‌‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে গেছে। কিন্তু শ্রমিকের হাজিরা ঠিকই দিতে হচ্ছে। কারখানার যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে।’

এশিয়া প্রিন্টিংয়ের মালিক সোহেল রানা বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জেনারেটর চালাতে গেলেও চাহিদামতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগে যেখানে ৭০০ লিটার ডিজেল লাগতো, এখন লাগছে ১২০০-১৫০০ লিটার।’

তিনি বলেন, ‘একেতো ব্যয় বাড়ছে, তার ওপর উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। এতে লাভের চাইতে লোকসানের দিকেই ঝুঁকছে কারখানা। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

বিদ্যুৎ সংকটের কারণের বড় কারখানার চাইতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানাগুলোর বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান একটি কারখানা মালিক হাসান সোহেল। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে অনেক কারখানা।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা গেছে, এ সমিতির আওতায় গ্রাহকদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫৫৪ মেগাওয়াট। সেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩১৩ মেগাওয়াট। তাই প্রতিদিন প্রায় ২৩১ মেগাওয়াট বিদুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে দফায় দফায়। এরপরও লোড ডেসপাস সেন্টার (এলডিসি) কর্তৃপক্ষের নানা নির্দেশনার কারণে আরও অতিরিক্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমাদের সমিতির অধীনে ১৯৪ ফিডারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব ফিডারের মাধ্যমে ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্প-কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়া হয়। শিল্প-কারখানায় লোডশেডিং দেওয়ার নির্দেশনা নেই। তারপরও বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরাসরি লোড ম্যানেজমেন্ট করা হয়। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে নতুন নিয়মে তাৎক্ষণিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এজন্য গ্রাহকদের আগে জানানো সম্ভব হয় না। জাগো নিউজ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD