রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন




বিটিভির পেছনে বছরে অপচয় ৩০০ কোটি টাকা: ডা. জাহেদ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ৫:১৭ pm
Bangladesh Television BTV বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি btv
file pic

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) খবরের পেছনে বছরের ৩০০ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে এক আলোচনায় এই তথ্য জানান তিনি।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘খবরের জন্য বিটিভির এখন গুরুত্ব নেই। বিটিভির পেছনে বছরে ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি টাকা ব্যয় হলেও আয় মাত্র ১৫ কোটি টাকা।’

তথ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে বিকাশের সুযোগ দিতে চায়। পত্রিকায় সরকারি ক্রোড়পত্র বিতরণের নীতিমালা সংস্কার এবং স্কুল কারিকুলামে মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও কাজ চলছে। এছাড়া নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে।

সভায় সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ফিলিস্তিনে সাংবাদিক হত্যার বিষয়ে নীরব থেকে ‘সিলেকটিভ অ্যামনেশিয়া’র পরিচয় দিচ্ছে। গণমাধ্যমকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য টেকসই অর্থনৈতিক মডেল তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ বলেন, সেই সময় গণমাধ্যম সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বরং বিভিন্ন মিডিয়া দখল ও সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ২২টি টেলিভিশন চ্যানেলের নিয়মিত বেতন না দেওয়া এবং ১৮ মাস ধরে কয়েকজন সাংবাদিকের বিনাবিচারে কারাবাসের কথা জানিয়ে তাঁদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী ও ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ জানান, সততা ও গুণমানের অভাবে জনআস্থা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীদের হয়রানি এবং অনলাইনে বিদ্বেষমূলক প্রচার রোধে রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।

‘জনআস্থা পুনর্নির্মাণ: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যম পরিবেশ অপরিহার্য। একটি স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও পেশাদার গণমাধ্যমই তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা নিশ্চিত করে।

প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জন আস্থা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা জোরদারে গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যম পরিবেশ অপরিহার্য। পেশাদার সাংবাদিকতা জোরদার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ বলেন, ‘একটি স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও পেশাদার গণমাধ্যমই তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা নিশ্চিত করে। বর্তমান তথ্যপ্রবাহের জটিল বাস্তবতায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেন দূতাবাসের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও জেন্ডার সমতাবিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি পাওলা কাস্ত্রো নিডারস্টাম।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য কেন্দ্র করে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ টেলিভিশন সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্টস সেন্টারের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ। আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও সীমাবদ্ধতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারকে গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের বিরাজমান বিভিন্ন কাঠামোগত ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার বিশেষভাবে উঠে আসে।

ইউনেসকোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণের আলোকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা জোরদার, পেশাগত মানোন্নয়ন, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম, সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ঘোষিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতি বছর ৩ মে পালন করা হয়। দিবসটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের অবদান স্মরণ করার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬। দিনটি উপলক্ষে ইউনেসকো এবং টিআইবি এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, সম্পাদক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জনআস্থা পুনর্গঠন: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD