বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন




ছয় মাসে সরকারের সুদ পরিশোধে ব্যয় ৭১ হাজার কোটি টাকা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ১১:৪৭ am
ঋণ money laundering illegal process money generated criminal drug trafficking terrorist funding illegally concealing illicit drug trafficking corruption embezzlement gambling converting legitimate source crime jurisdictions আমদানি ওভার ইনভয়েসিং রপ্তানি আন্ডার-ইনভয়েসিং আমদানি-রপ্তানি অবৈধ জাল অর্থ পাচার জিএফআই মানি লন্ডারিং আর্থিক খাত গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ হুন্ডি অর্থ পাচার সরকার ছিনতাই Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা taka taka
file pic

সরকারের দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৭১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৫৮ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক ঋণ বুলেটিনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যার কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় মেটাতে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে বড় আকারে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধ বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকা, যা যেকোনো সময়ের বিবেচনায় রেকর্ড। রাজস্ব আদায় না হওয়ায় দেশি উৎস থেকে ঋণ বাড়ছে, বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে। এ অর্থবছরের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯ মাসেই ছাড়িয়ে গেছে।

ঋণ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকার এই ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর সবচেয়ে বেশি সুদ পরিশোধ করেছে। যার পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৪৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, একই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ পাঁচ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল আট হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের দেশি-বিদেশি উভয় খাত থেকেই ঋণ বেড়েছে। এ সময় মোট ঋণ বেড়েছে ৬২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৫২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১০ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বেড়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, মুদ্রার ঝুঁকি থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিদেশি ঋণের তুলনায় দেশীয় ঋণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারের ওপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে সরকার একদিকে দেশীয় তারল্য বৃদ্ধি করছে এবং একই সঙ্গে বিনিময় হার ওঠানামার ঝুঁকি কমাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুন শেষে যা ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর শেষে দেশি উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি উৎসের ঋণ স্থিতি হয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঋণ গ্রহণের ধারা দেশীয় বাজারভিত্তিক উপকরণের দিকে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএফআই) থেকে বৈদেশিক ঋণের কম ছাড়ের কারণে ঘটেছে। এই পরিবর্তনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করছে, যা মুদ্রা ঝুঁকি কমায় এবং বৈদেশিক ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্থিরতা থেকে জাতীয় বাজেটকে রক্ষা করে।

দেশীয় ঋণ বৃদ্ধি সাধারণত ‘ক্রাউডিং আউট’ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করলেও বর্তমান পরিস্থিতি একটি বিশেষ সুযোগের তৈরি করেছে। তাদের মতে, ভালো ব্যাংকগুলোয় উচ্চ তারল্য, সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের হার নিম্নমুখী এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে বেসরকারি খাতকে চাপ না দিয়েই টেকসইভাবে দেশীয় অর্থায়ন সম্ভব।

এই অভ্যন্তরীণ তারল্যকে কাজে লাগিয়ে সরকার একটি আরো স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর রাজস্ব কাঠামো গড়ে তুলছে, যা বেসরকারি ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি না করে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। আমার দেশ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD