শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন




তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই ঋণের ১১০০ কোটি টাকার কিস্তি চালু হচ্ছে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ ১১:৪৭ am
থার্ড টার্মিনালের থার্ড টার্মিনাল terminal এয়ারপোর্ট HSIA CAAB hazrat shahjalal international airport dhaka biman হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর HSIA CAAB Terminal বিমানবন্দর-3rd terminal
file pic

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সেদিন একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়নের পরিকল্পনা আছে। ওই দিন উদ্বোধন হলেও সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে পুরোদমে ফ্লাইট চালু করতে আরও কয়েক মাস লাগতে পারে। তার আগে আগামী জুনে শুরু হচ্ছে ঋণের বার্ষিক কিস্তি। এর পরিমাণ প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাপান কনসোর্টিয়াম ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। উভয়ের মধ্যে দরকষাকষি চলছে। টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রীসেবা, কার্গো হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন খাতে যে বিপুল আয় হবে, তা বণ্টন নিয়েই মূলত মতপার্থক্য।

তৃতীয় টার্মিনালের প্রকল্প ব্যয় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে সরকার দিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ জাইকার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে এসেছে। এর কিস্তি পরিশোধ আরও দেড় বছর আগে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নেয় বেবিচক।

বেবিচক জানায়, আসছে জুনে ঋণের কিস্তি দেওয়া শুরু হবে। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত কিস্তি দিতে হবে।
বেবিচকের একটি সূত্র জানায়, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকছে। সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও পরিচালনা চুক্তি সম্পাদন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হবে।

সূত্র জানায়, জাপান কনসোর্টিয়াম আয়ের ২৫ শতাংশ বেবিচককে দিতে চায়। তবে বেবিচক আরও বেশি চাচ্ছে। এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে চুক্তি সইয়ের পথ খুলবে। সমঝোতা হওয়ার ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি করার নিয়ম আছে। এরপর খুঁটিনাটি বিষয় দেখার পর চুক্তি সই হতে আরও তিন মাসের মতো লাগার কথা। এরপর শুরু হবে অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) কার্যক্রম, যা ছয় মাসের বেশি লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে টার্মিনালের পুরোপুরি সুফল পেতে অন্তত আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তৃতীয় টার্মিনালের ওরাট কার্যক্রম পরিচালনা করবে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম। নিরাপত্তা তদারকি করবে বেবিচক। টার্মিনালে চার হাজার নিরাপত্তাকর্মীসহ প্রায় ছয় হাজার কর্মী কাজ করবেন।

বারবার আলোচনার পরও চুক্তি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মেহবুব খান জানান, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাইকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়। তাদের দেওয়া প্রস্তাবটি মানা হলে বেবিচকের তেমন কোনো লাভ থাকে না। এ কারণে টার্মিনাল পরিচালনা ও চুক্তির বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।

শিগগিরই চুক্তির বিষয়ে সমঝোতার আশা প্রকাশ করে বেবিচকের কর্মকর্তা মেহবুব খান জানান, বর্তমানে চুক্তির বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কারণ, বর্তমান আলোচনায় উভয় পক্ষই লাভের মুখ দেখছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল পরিচালনার টার্গেট থাকলেও তার আগেই চালুর পরিকল্পনা আছে।

বেবিচক-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেবিচক সদরদপ্তরে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বৈঠক চলছে। ১৭ মে পর্যন্ত বৈঠক চলবে।

সম্প্রতি বেবিচকের সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই জাপানের সঙ্গে চুক্তি হবে। সে লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে চলছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য বিবেচনায় রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ টার্মিনালে আছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক ও তিনটি ভিআইপি ডেস্ক। টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হবে। কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে দাঁড়াবে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD