শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন




জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও আমল

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ ১১:৫৭ am
আশুরা ঈদ পবিত্র জুমাতুল বিদা lailatul kadar শবে কদর lailatul kadar শবে-কদর ইতিকাফ রমজান রোজা sobe borat Shab e Barat namaz রজনী নিসফে শাবান‎ লাইলাতুল বরাত শা'বান মাস ইবাদত বন্দেগি শবে বরাত প্রার্থনা মুসলিম উম্মা মহিমান্বিত রাত শবে বরাত নফল ইবাদত কোরআন তেলাওয়াত জিকির-আসকার জিকির আসকার মোনাজাত ফজিলত ধর্মপ্রাণ মুসলমান শবে মেরাজ শবেমেরাজ ইসলাম islam eid e miladunnanabi Eid Milad un Nabi Rabi al awwal রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী Rabi al-Awwal eid মুহাম্মদ সা রবিউল আউয়াল ঈদ Baitul Mokarram bicycle salat বাইসাইকেল নামাজ সালাত salat বাইসাইকেল নামাজ সালাত
file pic

হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ মাস। এ মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এটি হজের মাস, ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার মাস, প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মাস। পবিত্র রমজান মাসের পর গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন। এই দিনগুলোর ইবাদত আল্লাহতায়ালার কাছে অতি প্রিয়।

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা পবিত্র কোরআন মজিদে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই দশকের রাতের শপথ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের।’ (সুরা আল-ফজর : ১-২) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.)-সহ অনেক সাহাবি, তাবেয়ি ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত’ দ্বারা জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

সুতরাং এই ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। এই ১০ দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে জিলহজ মাসের ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এর চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদের চেয়ে উত্তম যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে। অতঃপর কোনো কিছু নিয়ে ঘরে ফিরে আসেনি।’ (সুনানে আবু দাউদ, সহিহ বুখারি, জামি তিরমিজি, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

অন্যত্র আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হলো, জিলহজ মাসের ১০ দিন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই। তবে ওই ব্যক্তি যার চেহারা ধূলিযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শাহাদত লাভ করেছে।’ (মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে আবু ইয়ালা, মাজমাউল জাওয়াইদ)

এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জিলহজ মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই একজন মুসলিমকে ইবাদতের এই সুবর্ণ সময়ের সদ্ব্যবহার করে অন্য সময়ের আমলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া জরুরি। আক্ষেপের বিষয় হলো, পবিত্র কোরআন-হাদিসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া এই ইবাদতের সময় সম্পর্কে সমাজের খুব স্বল্পসংখ্যক মুসলিমই ধারণা রাখেন। জিলহজ মাসের প্রথম দশকের উল্লেখযোগ্য কিছু আমল হলো—

হাজিদের সাদৃশ্য হিসেবে চুল-নখ না কাটা : কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির এই ১০ দিন—নখ, চুলসহ শরীর থেকে কোনো কিছু না কাটা মুস্তাহাব। এ সম্পর্কে উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলছেন, ‘যে ব্যক্তি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখে এবং কোরবানির ইচ্ছা করে, সে যতক্ষণ কোরবানি না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন চুল বা নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম) এ আমল মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। ফিকাহবিদরা বলেছেন, কোরবানি করার আগে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি না কাটার পেছনে হিকমত হচ্ছে হজযাত্রীদের সঙ্গে সাদৃশ্য করা। কারণ, তাদের ইহরাম অবস্থায় এসব কাটা নিষিদ্ধ।

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতিকোরবানি ঈদের প্রস্তুতি
তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা : জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসর নামাজ পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। এটি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সব বালেগ পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী, জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী বা একাকী আদায়কারী প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা কর্তব্য। (ফাতাওয়ায়ে শামি, বাহরুর রায়েক)। পুরুষের জন্য তাকবিরে তাশরিক জোরে পড়া ওয়াজিব। আস্তে পড়লে তাকবির পড়ার হক আদায় হবে না। আর মহিলারা নিচু আওয়াজে—অর্থাৎ নিজে শুনতে পায় এমন আওয়াজে পড়বে। (রদ্দুল মুহতার, এলাউস সুনান)

তাকবিরে তাশরিক হলো—আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহ আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অধিক পরিমাণে জিকির করা : আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালার কাছে জিলহজ মাসের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই। সুতরাং, তোমরা এই দিনগুলোয় বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করো।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

আরাফার দিনে রোজা রাখা : আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি মনে করি, তার বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা এক বছর আগের এবং এক বছর পরের গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম) আরাফার দিন ছাড়াও ঈদের দিন ছাড়া প্রথম দশকের বাকি ৯ দিন রোজা রাখাকে মুস্তাহাব বলেছেন ইমাম নববি (রহ.)।

ঈদুল আজহার সালাত আদায় : ঈদের দিনের যাবতীয় সুন্নতগুলো পালনে সচেষ্ট হওয়া। জিলহজ মাসের দশম দিন ঈদুল আজহার সালাত প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যা ঈদগাহে গিয়ে আদায় করতে হয়। হজরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) ঈদুল ফিতর এবং আজহাতে ঈদগাহে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি)

কোরবানি করা : এ দিনগুলোর দশম দিন ঈদের সালাতের পর সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহতায়ালা তার নবীকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো।’ (সুরা আল-কাউসার : ২)

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে জিলহজ মাসের প্রথম দশকের মর্যাদার প্রতি লক্ষ রেখে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক : মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা, ঢাকা




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD